ঢাকা, শুক্রবার ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ , বাংলা - 

ইইউ’র প্রতি জিএসপি বহালের আহ্বান

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

বৃহঃস্পতিবার ৪ঠা অক্টোবর ২০১৮ বিকাল ০৩:১২:২৯

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হওয়ার পরও বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের(ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ডায়ালগের ৪র্থ রাউন্ড) সংলাপে এ আহ্বান জানানো হয়। সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিস রেনেসি তেরিংক ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও অংশ নেন।সংলাপ শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং ইইউ’র রাষ্ট্রদূত মিস রেনেসি তেরিংক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হলেও ২০২৪ সালের মধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হবো। তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা স্বল্পোন্নত দেশের সুযোগ-সুবিধা পাবো। কিন্তু তারপরেও ইইউ আমাদের অনেক সাহায্য-সহযোগিতা করেছে। আমাদের রফতানি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আর আমাদের আমদানি ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা ভারত-বাংলাদেশ ট্রেড গ্যাপ (বাণিজ্য ঘাটতি) নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু লক্ষ্য করি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের কত বড় গ্যাপ, যদিও এটা আমাদের পক্ষে। 

আমরা ইউপোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক করবো এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা ইইউভুক্ত দেশগুলোকে এখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবো, তাদের বিনিয়োগে সুযোগ-সুবিধা দেবো। আমরা ১০০টি ইকোনমিক জোন করেছি। সেখানে যদি তারা বিনিয়োগ করতে চায়, তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এখানে আমাদের বড় আলোচ্য বিষয় ছিলো যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হবো তখন যেন জিএসপি সুবিধা বলবৎ থাকে। আমরা যাতে জিএসপি প্লাস পাই যেটা তারা শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে দিয়েছে সেটাই যাতে পাই সেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবো। প্রতি ৬ মাস অন্তর আমাদের এই ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন-বাংলাদেশের ডায়লগ অনুষ্ঠিত হবে।

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, সংলাপে আমরা আরও একটি কথা বলেছি সেটা হলো এটা নির্বাচনের বছর। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। সরকারের আয়তন ছোটও হতে পারে, সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। এই মেসেজটাও আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দিয়েছি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিস রেনেসি তেরিংক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। এজন্য যেসব সমস্যা রয়েছে সে সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এ সমস্যাগুলো যাতে দ্রুত সমাধান হয় আমরা সে চেষ্টা করবো। প্রতি ৬ মাস পর আমাদের ডায়লগ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে।