ঢাকা, শুক্রবার ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ , বাংলা - 

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ জিতলো ফিলিস্তিন

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

শুক্রবার ১২ই অক্টোবর ২০১৮ রাত ১০:২৮:০০

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ফুটবলের ৫ম আসরের শিরোপা জিতলো ফিলিস্তিন। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে তাজিকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নেয়। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রী বীরেন শিকদার, যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রায় হাজার বিশেক দর্শক এর উপস্থিতিতে চমৎকার এক ফাইনাল ম্যাচ উপহার দেয় দু’দল।  নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে মোট ১২০ মিনিটের শ্বাসরূদ্ধকর ফাইনালে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই নুতন চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনকে খুঁজে পায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। খেলা শেষের বাশি বাঁজতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন ফুটবলাররা। দেশের পতাকা নিয়ে মাঠময় ল্যাপ অব অনার দেন। টাইব্রেকারে ফিলিস্তিনের জোনাথন জরিলা, মোহাম্মদ আলী ভিসাত, মুসা বাতাত ও আবদুল লতিফ গোলের দেখা পেয়েছেন। তবে তাজিকিস্তানে হয়ে আবদু গাফারভ, এরগাসেভ জাহঙ্গীর ও আসরভ গোলের দেখা পেলেও ব্যর্থ হয়েছেন তুরসনভ কমরন ও তাবরেজা।

গোল দিতে না পেরে মাথায় হাত কমরনের। একি করলেন। সোনার ট্রফি হাতছাড়া করে দিলেন।গ্রুপ পর্বে দু’দলই দুর্দান্ত খেলে ফাইনাইলে উঠে এসেছে। তাই শিরোপা নির্ধারনী লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তাতে কোন সন্দেহ ছিল না। হলোও তাই। তবে হতাশা অধিকাংশই ছিল ফিলিস্তিনের। র‌্যাংকিংয়ে ১০০ নম্বরে থাকা দলটি নির্ধারিত ৯০ এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোল করতে পারেনি ১২০ নম্বরে থাকা দশজনের তাজিকিস্তানের বিপক্ষেও।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনালে ছিল না বাংলাদেশ। কিন্তু তারপরও যেন মাঠে ছিল লাল সবুজের দল। কারণ তাজিকিস্তান নেমেছিল সবুজ এবং ফিলিস্তিন খেলে লাল জার্সী পড়ে। শুধু ছিলো না লাল-সবুজ জার্সীধারী বাংলাদেশ। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ১৫ হাজার দর্শক ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করলেও স্বাগতিক বাংলাদেশকে না পেয়ে দু’দলকেই সমান তালে সমর্থন দিয়েছেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই সমানতালে খেলেছে দু’দল। সাত মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তাজিকিস্তানের ফরোয়ার্ড জাহঙ্গীরের শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। তবে এরপর থেকে বেশ কিছুটা সময় আক্রমণের করে তাজিক শিবিরে কাঁপন ধরায় ফিলিস্তিনের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ফিলিস্তিনের বিএ রশিদের পাসে বল পেয়ে আবারো বক্সে ঢুকে জোড়ালো শট নেন মুসা। তাজিকিস্তানের গোলকিপার রুস্তম ঝাপিয়ে পড়ে কর্ণারের বিনিময়ে এ যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন। মিনিট দুয়েক পর বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন খালিদ সালেম। তাকে ঘিরে ধরেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা। তবে দমে না গিয়ে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে ডান পায়ের শট নেন খালিদ। বল বাঁ পোস্টে লেগে ফেরত আসে। দুর্ভাগ্য ফিলিস্তিনের।

২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ইসলাম বর্তনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩৪ মিনিটে ফিলিস্তিনের সামেহ মারাবাহকে মারাত্মক ফাউল করেন ফাতখুল্লুয়েভ। মুখে ঘুষিও মারেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে দু’দলের ফুটবলাররা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। রেফারি ফিলিস্তিনের রশিদকে হলুদ এবং  লাল কার্ড দেখান তাজিকিস্তানের অধিনায়ক ফাতখুল্লুওয়েভকে। ফলে দশজনের দলে পরিণত হয় তাজিকিস্তান। ৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনের আবদুল্লাহ জাজেরের শট ছিলো নিশ্চিত গোল। কিন্তু হাত উচিয়ে বল ফিস্ট করে কর্ণারের বিনিময়ে দলকে এ যাত্রায়ও রক্ষা করেন তাজিক গোলকিপার। পরের মিনিটে সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাজিকিস্তানেরও। বক্সে বল পেয়ে শট নেন তারসুনভ কমরণ। কিন্তু অল্পের জন্য জালে জড়ায়নি বল। ৭৬ মিনিটে তাজিকিস্তানের নাজারুভের শট প্রথমে বারে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বলে আবারো শট নিয়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু অফসাইডের ফাদে বাতিল হয় গোলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ ছিলো গোলশূণ্য। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে বদলী ফরোয়ার্ড উদয় দাবাগের হেড ক্রসবারের ঠিক উপর দিয়ে চলে গেলে হতাশ হয়ে পড়ে ফিলিস্তিন। তবে অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা না পাওয়ায় দু’দলকেই যেতে হয় ভাগ্যের খেলা টাইব্রেকারে। সেখানেই তাজিকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরেপা জিতে নেয় ফিলিস্তিন।