ঢাকা, শুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০১৯ , বাংলা - 

বিলে সই না করায় পেটা খেলো ২ প্রকৌশলী

জেলা সংবাদদাতা।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

বুধবার ২৬শে জুন ২০১৯ বিকাল ০৩:২৫:৪৮

শরীয়তপুর : অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর ও এনামুল হক ইমরান।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডামুড্যা উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান ও আব্দুল মালেককে মারধর করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগ এনে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর ও পূর্ব মাদারীপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক ইমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ডামুড্যা থানায় উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান বাদী হয়ে ওই তিন নেতাকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলার পর একজনকে আটক করেছে পুলিশ।এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই কার্যালয়ে প্রকৌশলীদের কক্ষে মারধরের ঘটনা ঘটে। তারা এ সময় উপজেলা প্রকৌশলী এসএম হাসান ইবনে মিজানকেও গালাগালি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, তার ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জুলহাস মাদবর ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এনামুল হক ইমরান হোসেন ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

এনামুল হক ইমরান সম্প্রতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প থেকে ১০টি সেলাই মেশিন সরবরাহ করার কাজ নেন।৯২০০০ টাকার ওই প্রকল্পটির বিল উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডামুড্যা উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর, জুলহাস মাদবর ও এনামুল হক ইমরান প্রকৌশলীদের কক্ষে যান।

সেখানে তারা বিলের চেকে সই করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। মেশিন সরবরাহ ও বিতরণের পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র না থাকায় প্রকৌশলীরা বিলের চেকে সই করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন ওই তিন নেতা উপসহকারী প্রকৌশলী আমীনুর রহমান ও আব্দুল মালেককে মারধর করেন।তারা উপজেলা প্রকৌশলী এসএম হাসান ইবনে মিজানকে মারধরের চেষ্টা করেন। তখন তিনি কক্ষের দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন।

উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক  বলেন, এডিপি প্রকল্পের একটি বিলের চেকে সই করা নিয়ে তাদের সাথে কথা হচ্ছিল। বিলের কাগজপত্রে ত্রুটি ছিল। আমরা ওই ত্রুটি সংশোধন করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। তারা কাগজপত্র ছাড়াই বিল দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমরা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা মারধর করেন। চড়থাপ্পড়, কিলঘুষি মেরেছে। লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে। আমরা ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের পরামর্শে মামলা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী হাসান ইবনে মিজান বলেন, রুবেল মাদবর ও জুলহাস মাদবর এলজিইডির কয়েকটি প্রকল্পের ঠিকাদার। কাজের মান নিয়ে কড়াকড়ি করার কারণে তারা আমাদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। তারা প্রায়ই হুমকি দিত, গালাগালি করত। আজ গায়ে হাত তুলেছে। দায়িত্ব পালন করার জন্য এভাবে আমাদের মার খেতে হবে?

ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেল মাদবর বলেন, আমাদের ছোট ভাই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান ছোট একটি কাজ করেছে। ওই কাজের বিলটি দিচ্ছিল না। ১০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল। বিষয়টি জানতে গিয়ে একটি তর্কাতর্কি হয়েছে। আমরা কাউকে মারধর করিনি।

ডামুড্যা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ছাত্রলীগের নেতারা দুইজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধর করেছে । তাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে একটি মামলা হয়েছে। আসামি জুলহাস মাদবরকে আটক করা হয়েছে।