ঢাকা, শুক্রবার ১৯শে জুলাই ২০১৯ , বাংলা - 

আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের সফলতা ও ব্যর্থতা

সোহেল সানি

রবিবার ৩০শে জুন ২০১৯ সকাল ১০:৪৮:৪৫

ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ কেবল মুসলমানের নয়, জাতি,ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানবের।.... মানবতার চূড়ান্ত মুক্তিসংগ্রাম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য জনতাকে তাহাদের সমস্ত ব্যক্তিগত এব্ং দলগত বিভেদ বিসর্জন দিয়া এক কাতারে সমবেত হইতেই মুসলিম লীগ কর্মীসম্মেলন আবেদন জানাইতেছে।

১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুনের ঢাকার স্বামী বাগস্থ বিখ্যাত রোজগার্ডেনে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়া হলে তার প্রতি উপস্থিত প্রায় সবাই সমর্থন ব্যক্ত করেন।এর আগে টাঙ্গাইল দক্ষিণ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী আইন পরিষদ সদস্য শামসুল হক "মূল দাবি" নামে একটি প্রস্তাবে উপরোক্ত কথা বলেন।

অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী ও নিখিল বঙ্গ মুসলিম লীগের পদচ্যুত সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দিকনির্দেশিত পথে ভারত বিভাগপূর্ব আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি (পদচ্যুত) মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে এ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মী সম্মেলনটি শুরু হয় মওলানা রাগীব আহসানের কন্ঠে পবিত্র কোরআনের বানী তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে। দল গঠনের অন্যতম কান্ডারী শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে থেকেই এর প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত,

১৯৪৯ সালের ৯ জুন পূর্বপাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের অস্থায়ী আহবায়ক দবিরুল ইসলাম (১৯৫৩ তে সভাপতি) হেবিয়াস কপার্স মামলা পরিচালনার জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকায় আসেন। একান্ত অনুগামী শওকত আলীর পরামর্শে ক্যাপ্টেন শাহজাহানের "নূরজাহান বিল্ডিং" এ ওঠেন। এ সময় পুরান ঢাকার ১৫০ মোগলটুলীর মুসলিম লীগের নবীন কর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলেনন। মওলানা ভাসানীর সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন সোহরাওয়ার্দী। মওলানা ভাসানী আসামের ধুবড়ী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আগেই ঢাকা এসে আলী আমজাদ খানের বাসায় উঠেছিলেন।

কর্মী সম্মেলন করার জন্য একটি বৈঠকে বসেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাখাওয়াত হোসেন, কুষ্টিয়ার শামসুদ্দীন আহমেদ, ঢাকার শওকত আলী, আলী আমজাদ খান, খন্দকার আব্দুল হামিদ ও ইয়ার মোহাম্মদ খান উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রস্তুতি কমিটি গঠন নিয়ে শুরুতেই বিরোধ দেখা দেয়। আলী আমজাদ খান আহবায়ক ও ইয়ার মোহাম্মদ খান সম্পাদক করা হলে শওকত আলী ও খন্দকার আব্দুল হামিদ কমিটির বিরোধিতা করেন। পরে মওলানা ভাসানীকে আহবায়ক ও ইয়ার মোহাম্মদ খানকে সম্পাদক করে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের রহমতগঞ্জ ইনস্টিটিউট ও পাইকপাড়ায় দু'দফা মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন উদ্যোক্তারা। এসব খবর শুনে ঢাকা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী বশীর হুমায়ুন তাঁর বিখ্যাত রোজগার্ডেনে সম্মেলন অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণ করে দেন। সরকারি বাধা নিষেধের আড়ালে সম্মেলনের দু'দিন আগেই গায়ে কোম্বল জড়িয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে মওলানা ভাসানীকে রোজগার্ডেনে পৌঁছে দেন শওকত আলী। ২৩ জুন বিকাল তিনটায় একেক করে লোকজন আসতে শুরু করে। তিন শত কর্মীর ওই সম্মেলন চলে গভীর রাত পর্যন্ত। অবিভক্ত বাংলার এককালীন প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নতুন দল গঠনকে স্বাগত জানিয়ে কয়েক মিনিট বক্তৃতা করে চলে যান।                                           ঢ়ধমব: ০১

"কর্মী সম্মেলনের আগে"

পাকিস্তান গণপরিষদ থেকে বহিস্কৃত নেতা সোহরাওয়ার্দী মানকীর পীর শরীফের উওর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ আওয়ামী মুসলিম লীগের ন্যায় পূর্ববঙ্গ বা পূর্ববাংলা নামে নয়, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা থেকেই সোহরাওয়ার্দী পূর্ববাংলা প্রদেশের নাম "পূর্বপাকিস্তান" রাখার নির্দেশ দেন। তিনি আইনমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের জন্য যে প্রথম শাসনতন্ত্র রচনা করেন, তাতে প্রদেশের নাম পূর্বপাকিস্তানই রাখেন। এই শাসনতন্ত্রের অধীনে সোহরাওয়ার্দী দেড়বছর আওয়ামী লীগ ও রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন সরকারের হয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব করেন।

"মূল দাবি"

কর্মী সম্মেলনে শামসুল হক পঠিত "মূল দাবি" প্রস্তাবে বলা হয়ঃ

"পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন মনে করে যে, সবকালের সব যুগের, সব দেশের যুগ প্রবর্তক ঘটনাবলীর ন্যায় লাহোর প্রস্তাবও একটা নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি করিয়াছে। বিরুদ্ধ পরিবেশে মানবের দেহ, মন ও মস্তিষ্কের উন্নতি ও পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। মানুষ পরিবেশের দাস এ কথা বৈজ্ঞানিকরাও স্বীকার করেন। বিরুদ্ধে পরিবেশে পূর্ণ ইসলামিক মনোভাব এবং সমাজ বিধান গড়ে গোতা সম্ভব নয়। ভারতের মুসলমানগণ বহু শতাব্দীর সঞ্চিত অভি অভিজ্ঞতা হইতে এই মহা সত্য উপলব্ধি করিয়াই বিরুদ্ধ পরিবেশে না দারুল হরবের পরিবর্তে ইসলামিক পরিবেশ বা দারুল ইসলাম কায়েম করার জন্য প্রতি প্রতিজ্ঞাববদ্ধ হইয়া ছিল। কিন্তু পাকিস্তান ইসলামিক রাষ্ট্র হইলেও শুধু মুসলমানের জন্য প্রতিষ্ঠিত করিবার এবং পাশ্চাত্য সভ্যতা ও শিক্ষা প্রভাবান্বিত ইসলাম বিরোধী সাম্রাজ্যবাদী, ধনতান্ত্রিক ও আত্মকেন্দ্রিক পরিবেশ গড়িয়া তুলিবার ইচ্ছা তাহাদের ছিল না।

ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ কেবল মুসলমানের নয়, জাতি,ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র মানবের।... মানবতার চূড়ান্ত মুক্তিসংগ্রাম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য জনতাকে তাহাদের সমস্ত ব্যক্তিগত এবং দলগত বিভেদ বিসর্জন দিয়া এক কাতারে সমবেত হইতে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন আবেদন জানাইতেছে।

সাম্রাজ্যবাদী সরীসৃপের ফোঁস ফোঁস শব্দ আজ আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে সর্বত্র শোনা যাইতেছে। সেই ফোঁস ফোঁস শব্দ যেন এ যুগের সঙ্গীত। আমাদের কওমী প্রতিষ্ঠান এই সরীসৃপদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাইয়া তাহাদের বিষদাঁত উৎপাটন করিতে বদ্ধপরিকর।

মূলদাবিতেই হযরত আবু বকর (রাঃ) বানীর উল্লেখ করে বলা হয় যে, "যদি আমি ঠিক থাকি, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আর যদি আমি ভ্রান্ত হই, আমাকে সংশোধন করো।"

মূল দাবিতে শেষে বলা হয়ঃ

"আসুন আমরা কোটি কোটি নরনারী সমবেত চেষ্টায় গণআজাদ হাসিল করিয়া সোনার পূর্বপাকিস্তানকে সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতন্ত্রের ভিত্তিতে গড়িয়া তুলি।"

"প্রথম কমিটি"

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে সমর্থনলাভের পর মওলানা ভাসানীর নাম সভাপতি পদে ঘোষণা করা হয়। ভাসানী উষ্ণ অভিনন্দন গ্রহণ করে চার জন সহ সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। এরা হলেন, খ্যাতনামা আইনজীবী আতাউর রহমান খান, সাখাওয়াত হোসেন, আলী আহমেদ খান এম এল এ, আলী আমজাদ খান ও আইনজীবী আব্দুস সালাম খান। সাধারণ সম্পাদকরূপে শামসুল হক, যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান(কারাবন্দী), সহ যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও সহ সম্পাদক এ কে রফিকুল হোসেন। কোষাধ্যক্ষ ইয়ার মোহাম্মদ খান। সম্মেলনের সিদ্ধান্তে বলা হয় নব নির্বাচিত সভাপতি চল্লিশ সদস্য বিশিষ্ট ঢ়ধমব-০২

কমিটির বাকী কর্মকর্তার নাম পরে ঘোষণা করবেন।

"প্রতিষ্ঠাকালীন উপস্থিতি"

প্রতিষ্ঠাকালীন ও কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ এম এল এ, খয়রাত হোসেন এম এল এ, আনোয়ারা খাতুন এম এল এ, আব্দুল জব্বর খদ্দর, আব্দুর রশীদ, মওলানা আরিফ চৌধুরী। উপস্থিত থাকলেও "মুসলিম" শব্দ যুক্ত হওয়ায় মহম্মদ তোয়াহা ও অলি আহাদ কমিটিতে না থাকার কথা জানিয়ে চলে যান।

শেরেবাংলা ছাড়াও জমিয়তে ওলামা ইসলামের মওলানা শামসুল হক ও মওলানা ইয়াকুব চৌধুরীও এ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ২৪ জুন ঢাকার আরমানীটোলা ময়দানে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। চার হাজার মানুষ এতে যোগ দেয়। পুরান ঢাকার মুসলিম লীগের পেটোয়াবাহিনী কুখ্যাত গুন্ডা কালু, আলাউদ্দিন ও ইব্রাহিমের নেতৃত্বে একদল মস্তান সমাবেশে হামলা পরিচালনা করে।

আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় জনসভা ও মিছিল ১১ অক্টোবর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ঢাকায় এলে। ভূখা মিছিল নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পুলিশী হামলার মুখে পড়েন দলটির শীর্ষ নেতারা। মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকসহ শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হয়ে যান। যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান কোনমতে গ্রেফতার এড়িয়ে করাচী গমন করেন। কিন্তু তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসতেই গ্রেফতাবরণ করেন।

"অফিস স্থাপন"

দুটি চেয়ার, একটি টেবিল,দুটি টুল ও একটা পুরান টাইপ মেশিন নিয়ে আওয়ামী লীগের পথচলা শুরু হয়। ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি শেখ মুজিব মুক্তি পেয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ৯০ নবাবপুর একটি ভবনে অফিস স্থাপন করে দলের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। একটি টেবিল, দুটি টুল ও দুটি চেয়ার ব্যবস্থা করে নিজেই বসে যান শেখ মুজিব। মোহাম্মদ উল্লাহ নামের এক নবীন আইনজীবী স্বেচ্ছায় শেখ মুজিবকে জানান, তিনি দলের হয়ে কাজ করতে চান। এ সময় একটি টাইপ মেশিন ব্যবস্থা করার জন্য সোহরাওয়ার্দী তাঁর এক ভক্তকে বলে দেন। কথায় কাজ হয় একটি পুরান টাইপ মেশিন পাওয়া যায়। মোহাম্মদ উল্লাহ বসে বসে দলের প্রেসরিলিজ টাইপ করা শেখেন। কার্যত দপ্তর সম্পাদক বনে যান সেই থেকে। যদিও মোহাম্মদ উল্লাহকে ১৯৫৩ সালের প্রথম কাউন্সিল পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হয় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য। এই মোহাম্মদ উল্লাহ ১৯৭২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। প্রথমে স্পিকার ও ১৯৭৪ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি হন। বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতি হলে পদ মর্যাদানাশ করে উপরাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন। তিনি পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারেরও উপরাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। কিন্তু তা দুদিনও স্থায়ী হতে পারেনি জেনারেল এরশাদের সামরিক আইন জারীর কারণে। মৃত্যুর আগে তিনি আওয়ামী লীগে ফিরে এসেছিলেন।

" অন্তর্ঘাতমূলক কোন্দোল"

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে ১৪৩ টি আসন পেয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও নির্বাচনকালীন ওয়াদা অনুযায়ী মাত্র ৪০টি আসন লাভকারী কৃষক শ্রমিক পার্টির সভাপতি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হককে পূর্বপাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মেনে নেয়। অচিরেই যুক্তফ্রন্ট ভেঙ্গে গেলে রিপাবলিকান ঢ়ধমব-০৩

পার্টির সঙ্গে কেন্দ্রে আওয়ামী মুসলিম লীগ সরকার গঠন করে। সোহরাওয়ার্দী অল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। পূর্বপাকিস্তানেও আওয়ামী লীগ আতাউর রহমান খানের মুখ্যমন্ত্রীত্বে সরকার গঠন করে। এ সময় আওয়ামী লীগে ভাঙ্গন দেখা দেয়। আব্দুস সালাম খানের নেতৃত্বে ২৫ জন আইন পরিষদ সদস্য পূর্বপাকিস্তানের গভর্নর শেরেবাংলার যুক্তফ্রন্টকে বাঁচিয়ে রাখেন আওয়ামী মুসলিম লীগের নামে একটি উপ দল সৃষ্টি করে।

কৃষক শ্রমিক পার্টির আবু হোসেন সরকারকে মুখ্যমন্ত্রী মেনে নিয়ে আব্দুস সালাম খান, হাশিমুদ্দীন আহমেদ মন্ত্রী হন। খন্দকার মোশতাক আহমেদ চীফ হুইপ ও খালেক নেওয়াজ খান পার্লামেন্টের সচিব বনে যান। খালেক নেওয়াজ পূর্বপাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের প্রথম সাধারণ সম্পাদক। ১৯৫৪ নির্বাচনে পূর্বপাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীনের জামানত বাজেয়াপ্ত করে সারা পাকিস্তানের চমকে পরিনত হয়েছিলেন। যুক্তফ্রন্ট ভাঙ্গনের পরিণতি ভয়াবহ ফল বয়ে আনে। পার্লামেন্ট কক্ষে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী হামলার মুখে প্রাণ হারান।

কেন্দ্রে ও প্রদেশে ষড়যন্ত্রের মুখে আওয়ামী লীগের দেড় বছরের শাসনামলের অবসান ঘটান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইস্কান্দর মীর্জা ও সামরিক জান্তা জেনারেল আইয়ুব খান। সামরিক আইন জারী করে।

"মুসলিম শব্দ পরিহার"

১৯৫৫ সালে ২১-২৩ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় কাউন্সিলে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর "মুসলিম" শব্দ পরিহার সম্পর্কিত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

এ সময় পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলীম লীগের সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী "মুসলিম" শব্দ পরিহারের প্রস্তাবটি সমর্থন করলে কাউন্সিলরা স্বাগত জানান। এভাবেই দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি লুপ্ত হয়ে যায়।

চলবে......

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।