ঢাকা, শুক্রবার ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ , বাংলা - 

মানুষ মারা যাচ্ছে,:২ মেয়রকে হাইকোর্ট

ষ্টাফরিপোর্টার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম

বৃহঃস্পতিবার ১৮ই জুলাই ২০১৯ ভোর ০৪:২১:১৫

ঢাকা: রাজধানীতে অকার্যকর মশার ওষুধ কেনা ও সরবরাহের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মশা নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ওষুধ আমদানি করে তা অতি দ্রুত ছিটানোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে সরকারের সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে। এ আদেশ কার্যকরে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে জানাতে দুই সিটির মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ নির্দেশ দেন। আদেশের আগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘মহামারি হতে বাকি নেই। বারবার বলার পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেয়নি। এরই মধ্যে ২১-২২ জন মারা গেছেন। কয়েক হাজার অসুস্থ। কিন্তু আপনারা বলছেন, কিছু হয়নি। কী করে একজন মেয়র বলেন যে কিছু হয়নি!’ আদালত বলেন, ‘মানুষ মারা যাচ্ছে। আর বলছেন, দুশ্চিন্তা নেই! কিন্তু যার সন্তান গেছে সেই বোঝে কী গেছে তার।’

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)। এই রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে মশার প্রসঙ্গ ওঠে। এরপর গত ১৫ মে ও ২ জুলাই হাইকোর্ট রাজধানীতে মশার উপদ্রব নিয়ে সিটি করপোরেশনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং মশা নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে পৃথক দুটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিটি করপোরেশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. নুরুন্নাহার আক্তার নূপুর। এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই খবরের কাগজে মৃত্যুর সংবাদ দেখছি। এ সময় সিটি করপোরেশনের আইনজীবী বলেন, এসব খবর দেখলে খারাপ লাগে।’ এ সময় আদালত বলেন, ‘সবার খারাপ লাগে। কিন্তু দুর্নীতিবাজদের খারাপ লাগে না। কারণ তাদের সন্তানরা এ দেশে থাকে না। তারা দেশের বাইরে বাড়িঘর করে। তাদের ছেলে-মেয়েরা বিদেশে লেখাপড়া করে।’

একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের আইনজীবী পৃথক দুটি প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে প্রতিদিন। সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘কী ওষুধ ছিটাচ্ছেন? কাজ হচ্ছে না। যে ওষুধ কার্যকর নয় তা ছিটিয়ে লাভ কী! এই ওষুধ কেনায় কোনো দুর্নীতি হয়েছে?’

এ সময় অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মিডিয়ায় রিপোর্ট এসেছে ওষুধের মধ্যে কার্যকারিতা নেই। তারপরও তা ছিটাচ্ছে। এখানে ২০-২২ কোটি টাকার অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে। এগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। যারা এ কাজগুলো করছে তাদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরশেন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’