ঢাকা, শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০২০ , বাংলা - 

হনুমান চালিশা পড়লেই বিদায় নেবে করোনা

প্রতিবেশি ডেস্ক।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম

রবিবার ২৬শে জুলাই ২০২০ দুপুর ০১:৫৪:০৪

কেউ বলছেন পাঁপড় খেলে শরীরে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। কারও বিশ্বাস আবার রামমন্দিরে। অযোধ্যায় মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর পড়া মাত্রই অতিমারি বিদায় নেবে বলে দাবি তাঁদের। সেই নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এ বার করোনা তাড়াতে হনুমান চালিশা পাঠের দাওয়াই দিলেন বিজেপির ভোপালের সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা। দিনে পাঁচ বার হনুমান চালিশা পাঠ করলেই করোনার হাত থেকে নিস্তার মিলবে বলে দাবি তাঁর।

শনিবার টুইটারে একটি ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করে প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘আসুন একজোটে আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষের সুস্বাস্থ্য কামনা করি এবং করোনার জেরে তৈরি হওয়া অতিমারিকে শেষ করে দিই। ২৫ জুলাই থেকে ৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে বাড়িতে বসে পাঁচ বার হনুমান চালিশা পাঠ করুন। ৫ অগস্ট অযোধ্যায় মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়ে গেলে, প্রদীপ জ্বালিয়ে ভগবান রামের আরতি করে তবেই এই রীতি সম্পন্ন করুন। দেশের সমস্ত হিন্দুরা একযোগে হনুমান চালিশা পাঠ করলে, কাজ হবেই। করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি মিলবে। কারণ সরাসরি ভগবান রামের কাছে প্রার্থনা করছি আমরা।’’    

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান গতকালই করোনায় আক্রান্ত হন। টুইটারে তাঁর আরোগ্যও কামনা করেন সাধ্বী প্রজ্ঞা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রদেশ সরকার চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখছে না এবং তার জন্য ৪ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে লকডাউন জারি রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছেন বলে জানান তিনি। কিন্তু ৪ অগস্ট লকডাউন শেষ হলেও, তার পর দিন অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হলে তবেই এই রীতি সম্পন্ন হবে বলে জানান সাধ্বী প্রজ্ঞা।

সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘৪ অগস্ট যদি লকডাউন শেষও হয়ে যায়, হনুমান চালিশা পাঠ কিন্তু ওই দিন শেষ হবে না। অযোধ্যায় ভূমিপুজো সম্পন্ন হলে তবেই তা শেষ করা যাবে। প্রদীপ জ্বালিয়ে ওই দিনটিকে দীপাবলির মতো পালন করব আমরা।’’

তবে সাধ্বী প্রজ্ঞা একা নন, দেশ থেকে করোনা তাড়াতে গত কয়েক দিনে বেশ কিছু বিজেপি নেতা এই রকম নানা নিদান দিয়েছেন। মোদী সরকারের জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল সম্প্রতি নিজের দফতরে দু’হাতে পাঁপড় নিয়ে ভিডিয়ো তুলেছেন। বিকানেরে তৈরি ‘ভাবিজি পাঁপড়’ হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে এক পাঁপড় নির্মাতা এগিয়ে এসেছেন। এটি শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সাহায্য করবে, যা করোনার বিরুদ্ধে লড়বে।’’

আবার অযোধ্যায় রামমন্দিরের নির্মাণ শুরু হলেই করোনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেন মধ্যপ্রদেশের প্রোটেম স্পিকার রামেশ্বর শর্মা। তিনি বলেন, ‘‘রাক্ষস বধের জন্য রামের জন্ম হয়েছিল। আর ৫ অগস্ট অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গেলে করোনা অতিমারির বিনাশ পর্বও শুরু হয়ে যাবে।’’