ঢাকা, শুক্রবার ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ , বাংলা - 

১৭ সালে ৫৭ হাজার শ্রমিক রপ্তানি চট্টগ্রামের

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম

মঙ্গলবার ৯ই জানুয়ারী ২০১৮ রাত ১০:০৩:৪৫

২০১৭ সালে চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ৫৭ হাজার ৭৬৩ শ্রমিক। যা এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার বেশি। নিকট অতীতে এতো জনশক্তি আর কখনো রপ্তানি হয়নি।সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের শ্রম বাজার প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক। 

গত বছর চট্টগ্রাম থেকে ওমানে রেকর্ডসংখ্যক বিদেশগামী হলেও এবছর সেই জায়গাটি দখল করে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ সৌদি আরব। চট্টগ্রাম থেকে মোট জনশক্তি রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই গেছে সৌদি আরবে। তবে কমেছে কাতার, বাহরাইন, লেবানন, সিঙ্গাপুরগামী শ্রমিকের সংখ্যা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার চালু হলে চট্টগ্রাম থেকে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি অফিসের কর্মকর্তারা।জানা গেছে, সারা দেশ থেকে গত বছর  মোট জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন। এ বছর সেই সংখ্যা ১ লাখ ৭৪ হাজার বেড়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছর ৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৩২ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরব গেছেন ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৬২জন। যা মোট জনশক্তি রপ্তানির ৫৫ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া ৮৩ হাজার ১৬৯ জন এবং ওমান ৮৩ হাজার জন।

এছাড়া কাতারে ৭৭ হাজার ১৪৫, কুয়েতে ৪৬ হাজার ১৭৪, সিঙ্গাপুরে ৩৭ হাজার ৬৭০, জর্দানে ১৯ হাজার ৫১৬, বাহরাইনে ১৮ হাজার ৯৮৪, ব্রুনাইতে ৭ হাজার ৯৩৬, লেবাননে ৭ হাজার ৮০৭, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩ হাজার ৮৭২, ইরাকে ৩ হাজার ৬৪৪, সুদানে ১ হাজার ৬০১, দক্ষিণ কোরিয়াতে ১ হাজার ৬০, জাপানে ১১০ জন এবং অন্যান্য দেশে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শ্রমিক পাড়ি দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম জেলা সাম্প্রতিক কালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ বছর চট্টগ্রাম থেকে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে সৌদি আরবে। গত বছর সৌদি আরবে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১০ জন।

কিন্তু চলতি বছর ২৬ হাজার ৭৭৬ শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন । অন্যদিকে ওমানগামী হয়েছে ১৭ হাজার ৫৩০ জন, যা গত বছরের তুলনায় ১১ হাজার ৮০ জন কম।এছাড়া কমেছে কাতার, বাহরাইন, লেবানন, সিঙ্গাপুরগামী শ্রমিকের সংখ্যা। চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে কাতারে গেছেন ৯ হাজার ২১১, কুয়েতে ২ হাজার ২২৩, বাহরাইনে ৯৭৫, মালয়েশিয়ায় ৩৩৫ জন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮৭ জন শ্রমিক পাড়ি দিয়েছেন।

জনশক্তি রপ্তানি চট্টগ্রাম কার্যালয়ে আসা সাতকানিয়ার বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, ম্যানপাওয়ারের জন্য আসলাম। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ। আগে আমাদের বড় ভাইদের এসব কাজের জন্য ঢাকায় যেতে হতো। তবে এখন চট্টগ্রামে বসে ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ট্রেনিং করে বিদেশে যেতে পারছি। এতে আমাদের কষ্ট কমেছে।

একই কথা বলছেন ফটিকছড়ির নাজিম উদ্দিন। তিনি জানান, আগে ঢাকায় গিয়ে হোটেলে ভাড়া থাকতে হতো, এছাড়া আসা যাওয়াতে অনেক সময় লাগতো। চট্টগ্রাম অফিসে সব কাজ হচ্ছে এটি আমাদের মতো বিদেশগামীদের জন্য একটি ভালো দিক।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি রপ্তানি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে এখন আগের চেয়ে প্রতারণার হার কমেছে। এছাড়া বর্তমানে নিরাপদ অভিবাসনের কারণে জনশক্তি রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে। এটা ঠিক যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রম বাজার চালু হলে চট্টগ্রাম থেকে আরো বেশি সংখ্যাক জনশক্তি রপ্তানি হতো। সেখানকার শ্রম বাজার চালু করতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল কাজ করছে। সামগ্রিক বিবেচনায় জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিগত ও আধুনিক হয়েছে।

বিদেশগামীরা এখন ঘরে বসেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিস্তারিত বিষয় জানতে পারছেন। ফলে বিদেশযাত্রাটাও আগের চেয়ে অনেক বেশি মসৃণ হয়েছে। অপরদিকে এবার চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়হাজারের মতো নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এখন বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশের (আটাব) চেয়ারম্যান মো. আবু জাফর বলেন, আগে বিদেশগামীদের ডাক্তারি পরীক্ষা ও ট্রেনিংয়ের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম আমরা। এখন সেই ভোগান্তি কমেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম অফিস থেকে স্মার্ট এবং ফিঙ্গার প্রিন্টের কাজও করা হচ্ছে। তাই দিন দিন বিদেশগামীর সংখ্যা বাড়ছে।

জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, স্বাধীনতার পরে এতো পরিমান জনশক্তি আর কখনো রপ্তানি হয়নি। এটি মন্ত্রণালয়ের একটি বিরাট সাফল্য। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রম বাজার চালু করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আশা করি খুব শিগগিরই একটি ইতিবাচক ফল পাবো।