ঢাকা, শুক্রবার ১৪ই ডিসেম্বর ২০১৮ , বাংলা - 

পদ্মার আশেপাশেই হচ্ছে বিমানবন্দর

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট ।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম

রবিবার ২১শে জানুয়ারী ২০১৮ সকাল ০৮:১৬:৫৫

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্প। সেতুতে বসেছে দ্বিতীয় স্প্যান। মূল কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৬ শতাংশ। এতে করে পদ্মাপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে আরও এক ধাপ। সেখানেই গড়ে ওঠার জোর সম্ভবনা দেশের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধুনিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

এটা হলে এই অঞ্চলে লাগবে আধুনিকতার ছোঁয়া। কেননা একে ঘিরে হবে বিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল, সেইসঙ্গে হবে নগরায়ণ। তাতে পাল্টে যাবে এই এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা। পদ্মার পাড়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এটি শুধু দেশের সেরা বিমানবন্দরই হবে না, এটি হবে এশিয়ার অন্যতম সেরা বিমানবন্দর। যার নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে শনিবার (২০ জানুয়ারি) সঙ্গে এ নিয়ে আলাপকালে রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মন্ত্রী যোগ করেন, পদ্মার পাড়ে বিমানবন্দর নির্মাণের পরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর চাপ কমবে। বিমানবন্দর নির্মাণ ঘিরে আমাদের বিশাল ও সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ ঘিরে পদ্মাসেতু ঘিরে এই অঞ্চলে বিশাল এক অর্থনৈতিক হাব গড়ে উঠবে। তাতে পুরো এলাকাটির অর্থনৈতিক চেহারাটাই যাবে পাল্টে।

‘আমাদের বিশ্বাস, পদ্মাপাড়ের এই বিমানবন্দরই হয়ে উঠবে দেশের প্রধান ও সর্বাধুনিক বিমানবন্দর। দুই নম্বরে থাকবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আর তিন নম্বরে থাকবে কক্সবাজার’—এমন কথাও জানালেন তিনি।

পদ্মাপাড়ের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকল্প এলাকা নির্ধারণ” সেটাই প্রমাণ করে। পাদ্মার পাড়ে চর জানাজাত (শিবচর, মাদারীপুর)এর সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এপারে যে তিনটি স্থান সম্ভাব্য বলে ধরা হয়েছিলো সেগুলো হচ্ছে চর বিলাসপুর (দোহার, ঢাকা), কেয়াইন (সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ) ও লতব্দি (সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ)।

স্থান নির্ধারণেরর জন্য সমীক্ষা চালানো হয় জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত। তবে বিশাল এই প্রকল্পে কি পরিমাণে ব্যয় হবে কিভাবে বিমানবন্দর ঘিরে নগর পরিকল্পনা গড়ে উঠবে সেটা জানতে হলে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ জুনেই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

ব্যয়-নকশা ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত করতে এখনও চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ। চুক্তি অনুযায়ী জাপানি কনসালট্যান্ট ফার্ম নিপ্পন কোয়েই কোম্পানি লিমিটেড ২০১৮ সালের জুন মাসে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবে। এর জন্য জাপানি কোম্পানিকে বাংলাদেশ সরকার ১২০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিএ) আবুল হাসনাত মোঃ জিয়াউল হক বলেন, পদ্মার পাড়ে মাদারীপুর অথবা শরিয়তপুরেই দেশের সেরা বিমানবন্দরটি হবে। অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করতে এখনও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডিজ)কাজ এখনো চলছে। এটি বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোর একটি। এই বিমানবন্দরটি নির্মাণে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। একে ঘিরে থাকবে সংযোগ সড়ক আর অত্যাধুনিক নগর-জনপদ। ২০১৮ মাসের জুন মাসে রিপোর্ট রিপোর্ট পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ।’

ঢাকা থেকে দূরত্ব, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, জমির পর্যাপ্ততা, আন্তর্জাতিক রুট, সড়ক, রেল ও নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, পুনর্বাসন, যাতায়াত খরচ ইত্যাদি বিবেচনা করেই স্থান নির্বাচন। জুনের পরেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ডিপিপি(ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) তৈরি করবে মন্ত্রণালয়। ব্যয়ের দিক থেকে এটা হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম মেগা প্রকল্প।

প্রসঙ্গত, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ প্রকল্পটি হচ্ছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। এর মোট ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি  টাকা। এর আগে, মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ২৫ হাজার একর জমি নিয়ে বিমানবন্দরটি বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। 

এর মধ্যে ১০ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বাকি ১৫ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসীর তীব্র আপত্তি ও ক্রমাগত বিক্ষোভের মুখে পরে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। সৌজন্য, বাংলানিউজ ।