ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,
সময়: ০১:৪০:১৬ PM

বগুড়ার মানেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের নয়

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
12-06-2026 06:00:00 AM
বগুড়ার মানেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের নয়

দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির আঞ্চলিক পরিচয় তার রাজনৈতিক আদর্শ নির্ধারণ করে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বগুড়ার বাসিন্দা হলেই কেউ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক হবেন কিংবা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হলেই আওয়ামী লীগের অনুসারী হবেন—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সম্প্রতি পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রেজাউল হককে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা নানা অভিযোগ সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সমালোচকদের দাবি, ১৮তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা রেজাউল হক অতীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতার কারণে প্রশাসনিক সুবিধা লাভ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজবাড়ী ও ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন। এছাড়া বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে।

সমালোচকদের আরও দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের অতিক্রম করে পদোন্নতি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। বর্তমানেও তিনি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে পদায়নের জন্য তার নাম প্রস্তাবিত হয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগকারীরা মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যেসব কর্মকর্তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কিছু কর্মকর্তা প্রশাসনে প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

রেজাউল হকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয় যে, অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় তার প্রশাসনিক ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে কয়েকটি জেলার রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশ দাবি করেন যে, তারা তার দায়িত্বকালীন সময়ে হয়রানি, নির্যাতন কিংবা প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

রাজবাড়ী জেলার একজন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যের দাবি, তাদের পরিবার রেজাউল হকের দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। তারা মনে করেন, অতীতের এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। একইভাবে কোনো অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সাধারণীকরণ করাও অনুচিত।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের অযথা অভিযুক্ত না করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।