ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৩:৫১:০৭ AM

ভিন্নমতের প্রতি সম্মান:শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
01-10-2026 10:41:34 AM
ভিন্নমতের প্রতি সম্মান:শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষককে পুলিশ আটক করার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, মতের ভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করার নীতির অংশ হিসেবেই শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আটক শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন ওই বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শিক্ষক মন্তব্য করেন বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, গোলাম কিবরিয়া কটূক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তিনি মূলত প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে বাংলা উচ্চারণে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছিলেন। 


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়াকে আটক করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। 


আটকের ঘটনা নিয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিন্ন একটি বার্তা আসে। বুধবার দিবাগত রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষককে ছেড়ে দিয়ে সসম্মানে ও নিরাপদে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ ওই শিক্ষককে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেয়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়েও একই তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম। 


মাহদী আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর একটি নীতিগত অবস্থান কাজ করেছে। তাঁর ভাষ্য, মানুষের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে এবং প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও তাঁর মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মানকেই তিনি গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে দেখেন বলে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানিয়েছেন। 


রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই ঘটনায় তাই দুটি বিষয় পাশাপাশি সামনে এসেছে—একদিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ এবং অন্যদিকে অভিযোগের পর আটক ব্যক্তির প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণ। অভিযোগের সত্যতা বা বক্তব্যের প্রকৃত ধরন নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা; তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, মতের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে কাউকে হয়রানি বা ভয় দেখানোর পরিবর্তে সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশ তৈরি করাই প্রত্যাশিত।

গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য স্বাভাবিক। একজন নাগরিক সরকারের নীতি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে পারেন—একই সঙ্গে সেই মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আইন, শালীনতা ও অন্যের অধিকারও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে দৌলতপুরের ঘটনাটি শুধু একজন শিক্ষককে আটক ও পরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং ভিন্নমত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বক্তব্যে যে বার্তাটি তুলে ধরা হয়েছে, তার মূল কথা হলো—মতের অমিল থাকলেও মানুষকে সম্মান করা এবং ভিন্নমতকে সহাবস্থানের জায়গা দেওয়া। ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চা সমাজে আস্থা বাড়াতে পারে। কুষ্টিয়ার এই ঘটনাকে ঘিরে সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়েই এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।