ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬,
সময়: ০৮:৫৬:০৪ PM

আ.লীগের ভুল নীতিতে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭ গুণ

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
11-05-2026 07:17:03 PM
আ.লীগের ভুল নীতিতে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭ গুণ

আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, অস্বচ্ছ চুক্তি ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে দেশের বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির বোঝা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সাত বছরে এ খাতে ভর্তুকি বেড়ে প্রায় সাত গুণ বা ৬৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকেও বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে সরকারের ভর্তুকি ছিল ৮ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে সম্ভাব্য লোকসান বা ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছরই বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভর্তুকি ছিল ১১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ২৩ হাজার কোটি টাকা। পরের বছর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভর্তুকি দাঁড়ায় ৩৩ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্ভাব্য ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎখাতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ দিয়ে দেশের দেড় বছরের স্বাস্থ্য বাজেট এবং আড়াই বছরের কৃষি বাজেট পরিচালনা করা সম্ভব। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রয়েছে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা এবং কৃষিখাতে বরাদ্দ ২৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎখাতের বড় লোকসানের অন্যতম কারণ হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী তাদের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ বাবদ ব্যয় ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ ভর্তুকির প্রায় ৮১ শতাংশই যাচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে।

এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির কারণে আমদানিকৃত এলএনজি ও ডিজেলনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। ডলারের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি আমদানির চাপ উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সিস্টেম লস, অবৈধ সংযোগ এবং দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে অবহেলার কারণেও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র, যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র এবং ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিপরীতে বিপুল ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানির কারণে সরকারের ব্যয় আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দায়মুক্তি আইনের আওতায় দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা সৃষ্টি এবং অস্বচ্ছ চুক্তির কারণেই এ খাতে লোকসান বেড়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বিদ্যুৎখাতের এই ভর্তুকির চাপ ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।