ঢাকা, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:৫৪:৫৫ AM

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারে

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
13-02-2026 09:33:35 PM
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারে

বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় প্রায় ২০ বছর পর দলটি সরকার গঠনের পথে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সরকার গঠন করা হবে। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন মন্ত্রিপরিষদের জন্য ৪৫টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—কেমন হবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা এবং কারা থাকছেন নতুন সরকারের দায়িত্বশীল পদগুলোতে।

মন্ত্রিসভা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

রাজনৈতিক মহল, সচিবালয়, ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন নতুন মন্ত্রিসভা। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি জোটসঙ্গী দলগুলোর কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় সরকারের আদলে মন্ত্রিসভা গঠন করা হতে পারে। উচ্চশিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কয়েকজন তরুণ সংসদ সদস্যও সুযোগ পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে জয়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আবারও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। একইভাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়–কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান। অন্যদিকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী–কে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আলোচনায় রয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি ২০০১ সালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন; এবার পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইন অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেতে পারেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য ড. এম এ মুহিত।

সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ,স্বরাষ্ট্র ও বানিজ্য মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিতে পারেন। এমনটাই শোনা যাচ্ছে বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় সম্ভাব্য নাম

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নাম শোনা যাচ্ছে। চরমনোইপীর সৈয়দ রোজাউল করিম, অধ্যাপক আবু সাঈদ পাচঁ জনের নাম আলোচনায় আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় দায়িত্ব পেতে পারেন শামসুজ্জামান দুদু। শ্রম মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস; প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খন্দকার আবু আশফাকের নাম রয়েছে।

শিক্ষা, নারী ও কূটনীতি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও আলোচনায়।

নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও কয়েকটি নাম সামনে এসেছে। শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের নামও আলোচনায় রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন দায়িত্ব পেতে পারেন বলে গুঞ্জন।

জোট থেকে কারা?

বিএনপির শরিক জোট থেকেও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর এবং জোনায়েদ সাকি। এছাড়া শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল ও ব্যারিস্টার মীর হেলালের নামও ঘুরছে আলোচনায়।

স্পিকার পদেও আলোচনা

জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুলাদী-বাবুগঞ্জ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করা। একই সঙ্গে দলীয় প্রত্যাশা ও জোটসঙ্গীদের সমন্বয় করে কার্যকর ও দক্ষ মন্ত্রিসভা গঠন করাও বড় পরীক্ষা হবে।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন—তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সেই জল্পনার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।