ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬,
সময়: ০৮:৪৬:৫৯ PM

জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য কাজ করছে সরকার

মান্নান মারুফ
07-04-2026 06:24:45 PM
জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য কাজ করছে সরকার

বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রতিটি জনপথকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, দলীয় সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজের মূল্যায়ন আরও কঠোর করা হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনে গতি ফিরে আসছে এবং দুর্নীতির প্রবণতাও কমে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের এই কার্যক্রম শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; জেলা পরিষদের প্রশাসক থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় প্রশাসনের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে নিত্যদিনের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা হচ্ছে এবং সেগুলোর সমাধানে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় জমে থাকা সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের এই সক্রিয়তা ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তা, মন্ত্রীপরিষদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি নিয়মিতভাবে তদারকি করছেন। জানা গেছে, দেশের সার্বিক কল্যাণ ও জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ করছেন। তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে তার সহকারীরাও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, যা সরকারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম শুধু নীতিনির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি সরাসরি বিভিন্ন খাতে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন কিনা, সরকারি বা দলীয় ব্যক্তিরা অসৎ কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছেন কিনা—এসব বিষয়ে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। বিশেষ করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এমনকি দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে কেউ হয়রানির শিকার হচ্ছে কিনা, সেটিও তার নজরদারির আওতায় রয়েছে। 

সরকারের এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই দেশ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়—এটি জনগণের দেশ। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি ইউনিটকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান একটি দায়িত্বশীল সুত্র।

দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অবকাঠামোগত সমস্যা, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, নগর পরিকল্পনা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শুধু শহর নয়, দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

গ্রামকে শহরের সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় রূপান্তরের এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে গ্রাম থেকে শহরে জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় কাজ করছেন।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকারের প্রতিটি ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং প্রশাসনের সক্রিয়তা দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। তবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। সরকারের এই নিরলস প্রচেষ্টা এবং দায়িত্বশীলদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের উন্নয়নের গতিকে আরও বেগবান করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।