ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:৩৪:৫১ AM

বন অধিদপ্তরে‘সুফল’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
28-07-2026 10:10:06 AM
বন অধিদপ্তরে‘সুফল’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

বন অধিদপ্তরের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ‘টেকসই বন ও জীবিকা’ (সুফল) প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের আওতায় রয়েছেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা। ২৭ জুলাই এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, গত বছর বন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর অভিযোগগুলোর একটি আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

তিনি জানান, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বন অধিদপ্তরের কাছে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র তলব করেছেন এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহের কাজ চলছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বন অধিদপ্তর ‘টেকসই বন ও জীবিকা’ শীর্ষক ‘সুফল’ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বন অধিদপ্তরের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন উদ্যোগ। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল বন সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

তবে দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদক পরিচালিত এক অভিযানে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে অসংগতি এবং বাস্তবে কাজ না করেই অর্থ উত্তোলনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক গোবিন্দ রায়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়।

দুদক বলছে, সুফল প্রকল্পসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতোমধ্যে সংগ্রহ করেছে অনুসন্ধানকারী দল। বর্তমানে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও পৃথক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে দুদক। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তার এবং তার ছেলে জাকির হোসেন জুমনের রাজধানীর উত্তরা এলাকায় থাকা ৫ কাঠা জমি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বন অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।