ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ও ত্যাগী ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, গত ৪ জুন যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া পদবঞ্চিত নেতৃবৃন্দ এ কমিটিকে একটি বিশেষ মহলের ‘পকেট কমিটি’ ও ‘প্রহসনের কমিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী ও নির্যাতিত অনেক নেতাকে কমিটিতে স্থান না দিয়ে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, অপরিচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে এরই মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছিল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ‘তুই-তোকারি’ পর্যায়ে পৌঁছায় বলেও তারা দাবি করেন। এ ঘটনার সংবাদ পরবর্তীতে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে বলে মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, ১৫১ সদস্যের কমিটির অধিকাংশ নেতাই দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় ছিলেন না। তাদের অভিযোগ, কেউ কেউ আওয়ামী লীগপন্থী নেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন।
নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি আবারও কোনো কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বিতর্কিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ দল ছেড়ে চলে যেতে পারেন কিংবা বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেন। এতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলন-সংগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এ সময় তারা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যুবদলের বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কমিটির অনিয়ম ও বিতর্কিত নিয়োগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী, নির্যাতিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে অনিয়ম ও পদবঞ্চিতদের অভিযোগ সম্পর্কে বিএনপির চেয়ারম্যানকে অবহিত করতে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ যুবদলের সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।মানববন্ধনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ যুবদলের সাংগঠনিক স্বচ্ছতা, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান। এ অবস্থান কর্মসুচীতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, হুমায়ুন কবির, সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, জাকির হোসেন খান, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক রিয়ন তালুকদার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ মাসুদ, সাবেক সহ ক্রীড়াসম্পাদক আমান উল্লাহ বিপুল, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক বাছেদুর রহমান সোহেল,ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আযম সেকত, ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক পাটোয়ারী, ছাত্রদল ঢাবি জিয়া হল শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ইমন,সাবেক সদস্য মাসুদ আহমেদ,,যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খান, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ সভাপতি শরীফ আল ফরহাদ দিপু,ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন,শাহীন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক কাজী মেজবাউল আলম, মুজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ, সুমন চৌধুরী, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ সরকার,সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর খান সাগর, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রোকন, সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক নীরব, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক বে-সরকারী বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আযম, সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক স্বপন কুমার মন্ডল, সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্বজিৎ ভদ্র, ফরিদ খান,সাবেক সদস্য মহিবুল্লাহ জয়,সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম রেজা, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ত্রান বিষয়ক সম্পাদক আজিম উদ্দিন মিরাজ,সাবেক সদস্য এম কামরুল ইসলাম, ঢাবি জহুরুল হক হলের সিনিয়র সহ সভাপতি খসরু আহমেদ হিরন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই ই আর অনুষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা খন্দকার আমিনুল হক আকন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম, ঢাবি সাবেক ছাত্রনেতা জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী শোভন, সাবেক যুবদল নেতা মাইন উদ্দিন বেগ সুজন, জবি সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম,সাবেক ছাত্রনেতা এমদাদুল হক পারভেজ, সাবেক ছাত্রনেতা জাহিদুল ইসলাম হিরন, সাবেক ছাত্রনেতা আমির হোসেন বাদশা সাবেক যুবদল নেতা মাহমুদ খান, ঢাকা মহানগর পুর্ব সাবেক ছাত্রনেতা দুলাল মাতব্বর, সাবেক ছাত্রনেতা মাসুদ রানা,সাবেক ছাত্রনেতা মানিক হোসেন প্রমুখ।