ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:০২:৩৫ AM

মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
26-07-2026 11:25:58 AM
মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা

বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-এর রাজনৈতিক জীবন, সরকারি দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময়ের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে যে তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের পর তাঁকে পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

লেখাটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নেন এবং পরে গ্রেপ্তার হয়ে নির্যাতনের শিকার হন। তবে এসব ঘটনার পক্ষে লেখাটিতে কোনো স্বাধীন তথ্যসূত্র বা নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়নি।

এতে আরও দাবি করা হয়েছে যে তিনি ১৯৮৩ সালে বিসিএসের মাধ্যমে বিচার বিভাগে যোগ দেন এবং বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার নিযুক্ত হন। লেখকের অভিযোগ অনুযায়ী, দুদকে কর্মরত অবস্থায় পদ্মা সেতু-সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর চার্জশিট প্রক্রিয়ায় তিনি সরকারের পক্ষে ভূমিকা পালন করেন। তবে এসব অভিযোগ বিতর্কিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও আদালতের নথি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

লেখায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে দুদক থেকে অবসরের পর তিনি এস. আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২৩ সালে তাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। লেখকের মতে, এ নিয়োগ রাজনৈতিক আনুগত্যের ফল; যদিও এ দাবির পক্ষে লেখাটিতে স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক সম্পর্কেও লেখাটিতে একাধিক দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গুমের অভিযোগে আলোচিত কথিত ‘আয়নাঘর’ থেকে ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়ে তিনি আপত্তি তুলেছিলেন এবং সেনাবাহিনীর তৎকালীন প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর অবস্থান অগ্রাহ্য করেন। লেখক এসব ঘটনার সূত্র হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের উল্লেখ করলেও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

প্রতিবেদনে উপস্থাপিত অধিকাংশ বক্তব্যই লেখকের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচ্য। এগুলোর অনেকগুলোর স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। তাই এসব দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট লেখকের উপস্থাপিত অভিযোগ ও মতামত হিসেবে দেখা উচিত। কোনো ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আদালতের নথি, সরকারি দলিল, নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য একত্রে বিবেচনা করা প্রয়োজন।