ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৯:৩৪:২৫ PM

জাইমার জাতিসংঘের চাকরি, সরকারের সম্পর্ক নেই

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
30-09-2026 08:32:37 PM
জাইমার জাতিসংঘের চাকরি, সরকারের সম্পর্ক নেই

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেছেন, জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের কোনো দপ্তরে নিয়োগ পাননি; তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহ্‌দী আমিন এসব কথা বলেন।

জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও গুজবের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা মিস্টার খলিলুর রহমানের অফিসে তো তাঁর চাকরি হয়নি। তাঁর চাকরিটি হয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ন্যূনতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’’

তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিয়ম, বিধিমালা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ বিভাগ নিয়োগ ও পদায়নের কার্যক্রম পরিচালনা করে। জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মাহ্‌দী আমিন আরও বলেন, জাইমা রহমানের নিয়োগপ্রক্রিয়া, আর্থিক সুবিধা এবং চাকরিসংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম ও ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ওয়েবসাইটেও জাইমা রহমানের পদ ও দায়িত্বের বিষয়ে তথ্য দেওয়া রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, জাইমা রহমান নিজ যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পি-৩ পর্যায়ের একটি পদে কাজ করছেন।

পি-৩ পদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘের পেশাগত পদগুলোর মধ্যে পি-১ সাধারণত নবীন পেশাজীবীদের জন্য, পি-২ পর্যায়ে সাধারণত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় এবং পি-৩ পর্যায়ে আরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পি-৩ পর্যায়ের পদটি মধ্যম পর্যায়ের একটি পেশাগত পদ, যেখানে সাধারণত প্রায় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, জাইমা রহমানের পেশাগত প্রোফাইলের সঙ্গে ওই পদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সামঞ্জস্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নিজ যোগ্যতায়, নিজ মেধায় একজন মানুষ জাতিসংঘে তাঁর মতো করে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর নিজের পেশাগত ক্যারিয়ারের জন্য এটিকে আমাদের সবার সাধুবাদ জানানো উচিত। এর সঙ্গে সরকারের ন্যূনতম কোথাও কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’’

জাইমা রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ কি না—এমন প্রশ্নের বিষয়েও বক্তব্য দেন মাহ্‌দী আমিন। তিনি বলেন, জাইমা রহমান কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে সেখানে কাজ করছেন না; বরং নিজের পেশাগত সক্ষমতায় জাতিসংঘে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে জাতিসংঘে পারিবারিক প্রভাব বলয় তৈরি করা বা সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ হওয়ার মতো অভিযোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও জাইমা রহমানের বর্তমান দায়িত্ব সেই ধরনের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিনি ব্যক্তিগত পেশাগত সক্ষমতায় জাতিসংঘে কাজ করছেন বলে দাবি করেন মাহ্‌দী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জাইমা রহমানের জাতিসংঘে কাজ করাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর বা অপপ্রচার না করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, নিজ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করলে সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে তাঁর নাম ও পদবির তথ্যও উল্লেখ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তবে জাইমা রহমানের নিয়োগের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, পদটির দায়িত্ব, যোগ্যতার শর্ত এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও ওয়েবসাইটের তথ্যই প্রামাণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।