ঢাকা, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬,
সময়: ০৪:৫৮:৫১ PM

নুসরাত থেকে বাউল-কন্যা ‘তানিয়া সরকার’ হওয়ার গল্প

বিনোদন প্রতিবেদক | ঢাকা
08-05-2026 02:42:52 PM
নুসরাত থেকে বাউল-কন্যা ‘তানিয়া সরকার’ হওয়ার গল্প

পরনে নেই প্রথাগত গেরুয়া বসন, হাতে নেই চিরাচরিত একতারা। তবুও যখন বেহালার ছড় টানেন আর কণ্ঠ ছাড়েন, তখন শ্রোতারা হারিয়ে যান অন্য এক ভাবে। তিনি তানিয়া সরকার। সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় এক বাউল শিল্পী, যিনি চিরায়ত প্রথার বাইরে গিয়েও সুরের জাদুতে জয় করেছেন লাখো ভক্তের হৃদয়।
​সুরের আলোয় নুসরাত থেকে তানিয়া
​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জন্ম নেওয়া নুসরাত জাহান তানিয়ার বেড়ে ওঠা ঢাকার ধামরাইয়ে। জীবনের মোড় বদলে যায় যখন তিনি বাউল গানের দীক্ষা নেন। তার প্রথম গানের গুরু বাবা তরিকুল ইসলাম তোরাপ। শৈশবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বাবার স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতেন তিনি। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের ওস্তাদ সুনিল সরকারের কাছে বাউল গানের গুরুমুখী বিদ্যায় শিক্ষিত হন। গুরুর দেওয়া ‘তানিয়া সরকার’ নামেই আজ তিনি দেশের সংগীতাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
​করোনা জয় ও ডিজিটাল বিপ্লব
​২০২০ সালে পেশাদার যাত্রা শুরু করলেও বিশ্বব্যাপী মহামারী তানিয়ার পথ আগলে দাঁড়ায়। কিন্তু সুর যার রক্তে, তাকে থামানো দায়। প্রতিকূল সময়ে অনলাইনে শুরু করেন গানের আসর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গায়কী ও বেহালার সুর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ২০২৬ সালে এসে তার গাওয়া ‘ও রাধে ও রাধে’ এবং ‘কলিজা কাটা বিচ্ছেদ’ গানগুলো ইউটিউব ও টিকটকে নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ফিরছে।
​স্বামী যখন অনুপ্রেরণার সারথি
​তানিয়ার এই সাফল্যের পেছনে বড় শক্তি তার স্বামী মো: আলহাজ হোসেন। শুরুতে কিছুটা অনীহা থাকলেও এখন তিনিই তানিয়ার প্রধান দিকনির্দেশক। কোন গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে দাগ কাটবে, কোন মায়াবী হাসিতে মঞ্চ মাতাবে—সব পরিকল্পনাতেই থাকে স্বামীর অনুপ্রেরণা। ধামরাই সরকারি কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি গানকে পেশা হিসেবে নিয়ে তানিয়া প্রমাণ করেছেন, একাগ্রতা থাকলে সবকিছুই সম্ভব।
​স্বপ্ন যখন আকাশ ছোঁয়ার
​চ্যানেল আই-এর ‘মেঘে ঢাকা তারা’ থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় মেলা কিংবা স্টেজ শো—সবখানেই তানিয়ার পদচারণা। বাউল, বিচ্ছেদ, লালনগীতি কিংবা পল্লীগীতি—সব ধরণের গানেই তিনি সমান পারদর্শী। তবে তানিয়ার স্বপ্ন আরও বড়। তিনি বলেন:
​"দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই আমাকে আজকের তানিয়া সরকার বানিয়েছে। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কোনো একদিন বাংলার এই শেকড়ের সুর বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার জীবনের লক্ষ্য।"

​বেহালার তারে মায়ার জাল বুনে তানিয়া সরকার বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাউল হওয়া মানে শুধু বেশভূষা নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে সুরের সাধনা করা। অদম্য এই শিল্পী এখন কেবল তানিয়া নন, তিনি বাংলার লোকজ সংগীতের এক নতুন আশার নাম।