ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬,
সময়: ০৮:৫৬:২২ PM

কে এই সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক এস কীর্তনা

ডেস্ক রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
11-05-2026 08:00:16 PM
কে এই  সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক এস কীর্তনা

তামিলনাড়ুর নবগঠিত রাজনৈতিক পরিসরে সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন এস কীর্তনা। তরুণ বয়স, অসাধারণ রাজনৈতিক কৌশল এবং ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ১০ মে চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে বিজয়ের দলের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করেন।১৯৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করা কীর্তনা ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার অধিকারী ছিলেন। গণিত ও পরিসংখ্যানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে তথ্য বিশ্লেষণ, জনমত যাচাই এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় তিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। এই শিক্ষাগত যোগ্যতাই পরবর্তীতে তাঁকে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম দক্ষ কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।

রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের আগে কীর্তনা কাজ করেছেন ভারতের সুপরিচিত রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আই-প্যাক (I-PAC) এবং শোটাইম কনসালটিংয়ে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এবং অন্ধ্র প্রদেশের নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু–এর মতো শীর্ষ রাজনীতিবিদদের নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক প্রচারণার মাঠে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে এবং বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।

বিশ্লেষক ও কৌশলবিদ হিসেবে সফলতা অর্জনের পর কীর্তনা সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার শিবকাশী আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেন। প্রায় ৬৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানই শক্ত করেননি, বরং ভেঙেছেন দীর্ঘ ৭০ বছরের ইতিহাস। শিবকাশী আসন থেকে তিনিই প্রথম নারী বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এই নির্বাচনে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল এআইএডিএমকে-র সাবেক এক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে পরাজিত করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের সমর্থন, আধুনিক প্রচারণা কৌশল এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁর বিজয়ের মূল শক্তি ছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, তথ্যভিত্তিক জনমত বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের যোগাযোগকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেন।

ভাষাগত দক্ষতার কারণেও কীর্তনা ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন। তিনি তামিল, ইংরেজি, হিন্দি, তেলেগুসহ পাঁচটি ভাষায় পারদর্শী। তাঁর মতে, বহু ভাষায় কথা বলতে পারার ক্ষমতা তাঁকে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করেছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে এই দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে কীর্তনাকে তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক নেতা থালাপতি বিজয়–এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজয়ের রাজনৈতিক দর্শন ও বার্তা সারা ভারতে ছড়িয়ে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে এবং অনেকে তাঁকে ভবিষ্যতের জাতীয় পর্যায়ের নেত্রী হিসেবেও দেখছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কীর্তনার উত্থান ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা নির্দেশ করছে। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ও বয়স্ক নেতাদের আধিপত্য দেখা গেলেও, এখন শিক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ নেতৃত্ব দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। কীর্তনা সেই পরিবর্তনেরই প্রতীক। তিনি প্রমাণ করেছেন, শুধু পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দক্ষতা, পরিকল্পনা ও জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেও রাজনীতিতে সফল হওয়া সম্ভব।

তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক তরুণ সমর্থকের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে তিনি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিশেষ করে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তরুণদের রাজনীতিতে আগ্রহী করে তুলতে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

এস কীর্তনার এই উত্থান শুধু একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি আধুনিক ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের শক্তিশালী আগমনের বার্তা। রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠার তাঁর যাত্রা ইতোমধ্যেই অনেক তরুণের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।