ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৪:১৮:৪৫ AM

বিএম কলেজে নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটালেন ছাত্রীরা

ষ্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-10-2026 11:41:32 AM
বিএম কলেজে নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটালেন ছাত্রীরা

বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসে গভীর রাতে এক অপরিচিত পুরুষের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ছাত্রীনিবাসের পুকুরপাড়ে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান নাইট গার্ড। এরপর তিনি লোকজনকে ডাক দিলে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে ছাত্রীনিবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিচে নেমে আসেন এবং সম্মিলিতভাবে ওই ব্যক্তিকে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা ছাত্রীনিবাসে আসেন। তবে পুলিশের উপস্থিতির পরও পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ কাটেনি। বরং তাঁদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছাত্রীদের উদ্দেশে টিজিংমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন, যা তাঁদের জন্য আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ছাত্রীনিবাসে অবস্থানরত একজন শিক্ষিকা ঘটনাটি তদারকি করেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। ঘটনার পর আতঙ্কিত ছাত্রীরা রাতের বেলায় হলের নিচতলায় অবস্থান করেন। পাশাপাশি দলবদ্ধভাবে পালাক্রমে পাহারা দিয়ে রাত কাটান তাঁরা। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আবাসিক হলে অবস্থান করেও কেন তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এভাবে রাত জেগে পাহারা দিতে হবে?

আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের অভিভাবকেরা অনেক আশা ও বিশ্বাস নিয়ে সন্তানদের কলেজে পড়তে পাঠিয়েছেন। কিন্তু নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক এলাকায় যদি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে অভিভাবকেরা কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকবেন? তাঁদের মতে, একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বসবাস ও পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রীনিবাসে নাইট গার্ডের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাতের বেলায় বহিরাগত ব্যক্তির প্রবেশ কীভাবে সম্ভব হলো, প্রবেশপথে নজরদারি যথাযথ ছিল কি না এবং দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁরা আরও বলেন, সেশন চার্জসহ বিভিন্ন ফি প্রদান করেও যদি মৌলিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? তাঁদের মতে, নিরাপত্তা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। তাই কেবল আশ্বাস নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ছাত্রীনিবাসের প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি, রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, নাইট গার্ডের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং পুরো আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা নিয়মিত তদারকি। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিকর আচরণের অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা কারও বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগ তুলতে চান না; বরং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর সমাধান চান। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বনমালী গাঙ্গুলী ছাত্রীনিবাসের এ ঘটনা আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, কলেজ প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যাতে তাঁরা ভয় ও আতঙ্কমুক্ত পরিবেশে বসবাস এবং পড়াশোনা করতে পারেন।