ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬,
সময়: ০৪:৩০:০৮ AM

ক্যাম্পাস সংস্কৃতি নিয়ে অভিভাবকদের শঙ্কা

ষ্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
16-05-2026 12:50:59 PM
ক্যাম্পাস সংস্কৃতি নিয়ে অভিভাবকদের শঙ্কা

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরকেন্দ্রিক শিক্ষাজীবন নিয়ে সমাজের একাংশে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে কিছু শিক্ষার্থীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সম্পর্কের অপব্যবহার এবং বিলাসী জীবনযাপনের প্রবণতা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা দেখা যাচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অভিযোগে দাবি করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ আবাসিক হোটেল, রুমডেট, গোপন আড্ডাকেন্দ্র কিংবা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

একটি আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, রাতে হোটেলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, অনেকেই স্বল্প সময়ের সম্পর্ক বা অবাধ মেলামেশার উদ্দেশ্যে এসব স্থানে অবস্থান করে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক চাহিদা বা বিলাসী জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা থেকেও কিছু শিক্ষার্থী অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন এমন একটি সময়, যখন তরুণ-তরুণীরা পরিবার থেকে দূরে স্বাধীন পরিবেশে চলাফেরা করে। এই সময়ে সঠিক মূল্যবোধ, পারিবারিক নজরদারি ও নৈতিক শিক্ষার অভাব থাকলে কেউ কেউ ভুল পথে যেতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংস্কৃতি এবং ভোগবাদী জীবনধারাও তরুণদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলছে।

তবে শিক্ষাবিদদের মতে, পুরো শিক্ষার্থী সমাজকে এককভাবে দায়ী করা বা সব নারী শিক্ষার্থীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে পরিবার ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো প্রজন্মকে বিচার করলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, তরুণদের মানসিক বিকাশের এই পর্যায়ে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা কিংবা সম্পূর্ণ উদাসীনতা—দুইটিই ক্ষতিকর হতে পারে। বরং পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, এবং সচেতন সামাজিক পরিবেশ তরুণদের সঠিক পথে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগকে শুধুমাত্র নারী বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সামগ্রিক সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক পরিবর্তন এবং আধুনিক নগরজীবনের প্রভাব নিয়েও গভীরভাবে ভাবতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। ফেসবুক থেকে নেয়া শহিদুল ইসলাম।