ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
সময়: ০৮:০৫:১২ PM

মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা গুরুত্বপুর্ন

ষ্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
16-06-2026 06:19:57 PM
মাদকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা গুরুত্বপুর্ন

দেশের যুব সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তরুণদের শারীরিক ও মানসিক শক্তিকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে না পারলে মাদকাসক্তিসহ নানা সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটবে। তাই বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কার্যক্রমকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাদক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এ সমস্যা রয়েছে, তবে বাংলাদেশে এর প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা কতজনকে গ্রেপ্তার করব, কতজনকে চিকিৎসা দেব বা কাউন্সেলিং করব? আমাদের সক্ষমতা ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই কেবল আইন প্রয়োগ বা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিপুল শারীরিক ও মানসিক শক্তি বিদ্যমান থাকে। এ শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা গেলে তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ না থাকলে নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলার মাঠের তীব্র সংকট রয়েছে। নগরায়ণের ফলে উন্মুক্ত স্থান ও ক্রীড়া অবকাঠামো কমে যাওয়ায় তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও শারীরিক চর্চার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাঠ ও ক্রীড়া সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শিক্ষা বিভাগীয় এক বৃহৎ আয়োজনে দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে সব পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এটি ছিল দেশের তরুণদের জন্য একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এত বড় একটি আয়োজন আমাদের সংবাদমাধ্যমে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পায়নি।”

তিনি আরও বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও তরুণদের দক্ষতা বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত বিজ্ঞান মেলা ও উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হলে তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “১৬ ডিসেম্বর বা ২১ ফেব্রুয়ারি ছাড়া কেন সারা বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা সাহিত্যচর্চা হয় না?” তিনি বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। তাই এসব কার্যক্রমকে নির্দিষ্ট দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর নিয়মিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।

সভায় তরুণদের নৈতিক অবক্ষয় এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবনতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে এমন অনেক ঘটনা দেখা যায় যেখানে কোনো জীবন্ত প্রাণীকে নির্যাতন বা হত্যা করা হচ্ছে, আর আশপাশের মানুষ তা প্রতিরোধ না করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছে। এ ধরনের আচরণ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, “এগুলো অস্বাভাবিক মানসিকতার পরিচায়ক। আমাদের সন্তানদের মধ্যে মানবিকতা, সহনশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চা বাড়াতে হবে।” এজন্য স্কুলপর্যায় থেকেই সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন ধরনের গণসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।