ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:২৩:৩১ AM

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
12-07-2026 12:10:08 PM
সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিতে আর্জেন্টিনা

সহজ পথ বোধ হয় এই আর্জেন্টিনার জন্য নয়। কেপ ভার্দের পর সুইজারল্যান্ডও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টেনে নিয়ে গেল অতিরিক্ত সময়ে। একজন কম নিয়ে খেলা সুইসদের প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত ভাঙলেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার দুর্দান্ত গোলের পর লাউতারো মার্তিনেজের গোলে সুইজারল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।

কানসাস সিটিতে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোর ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়ের ১১২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন আলভারেজ, পরে যোগ করা সময়ে সুইস কফিনে শেষ পেরেক দেন লাউতারো। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যারা দিনের অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের পর নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়েছে।

আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ম্যাচের দশম মিনিটেই। বাঁ দিক থেকে লিওনেল মেসির মাপা কর্নারে কাছের পোস্টে উঠে মাথা ছোঁয়ান অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। তার হেড দূরের কোণ দিয়ে জালে জড়ালে কোনো সুযোগ পাননি সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।

গোলটি ম্যাক আলিস্টারের হলেও ইতিহাসের পাতায় আবারও নাম ওঠে মেসির। বিশ্বকাপে এটি তার দশম অ্যাসিস্ট। চলতি আসরে আট গোলের পাশাপাশি দ্বিতীয়বার সতীর্থকে দিয়ে গোল করালেন ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

শুরুর গোলটি অবশ্য আর্জেন্টিনাকে পুরোপুরি স্বস্তি দিতে পারেনি। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখলে এগিয়ে ছিল সুইজারল্যান্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জিব্রিল সোর জোরালো শট ঠেকান এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। পরে ব্রিল এমবোলোর সামনে এগিয়ে এসে আরেকটি সম্ভাব্য বিপদ সামলান আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

গোল করার পর আক্রমণের ধারও হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা। ম্যাক আলিস্টারের গোলের পর প্রথমার্ধের বাকি ৩৫ মিনিটে আর কোনো শট নিতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। সুইজারল্যান্ড বলের দখল রাখলেও বিরতির আগে সমতায় ফেরার মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে দেয় সুইসরা। দান এনদোয়ের হেড ঠেকানোর পর গ্রানিত জাকার দূরপাল্লার শটও রুখে দেন মার্তিনেস। তবে ৬৭ মিনিটে আর পারেননি।

রিকার্দো রদ্রিগেজের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে আর্জেন্টিনার বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে পড়েন এনদোয়ে। শরীর খুলে ডান পায়ের শটে বল পাঠান দূরের কোণে। মার্তিনেজকে পরাস্ত করে সুইজারল্যান্ডকে ১-১ সমতায় ফেরান নটিংহাম ফরেস্টের এই ফরোয়ার্ড।

সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও সুইসদের দিকে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

এম্বোলোর পড়ে যাওয়াকে প্রথমে পারেদেসের ফাউল হিসেবে ধরে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পিনেইরো। ভিএআর রেফারিকে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়। রিপ্লে দেখে পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করেন রেফারি। উল্টো ফাউলের অভিনয় করার অপরাধে এমবোলোকে হলুদ দেখান।

প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে পারেদেসকে দেরিতে চ্যালেঞ্জ করার কারণে আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এমবোলো। ফলে দ্বিতীয় হলুদের পর লাল কার্ড দেখে ৭২ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। চোখের পানি নিয়ে টানেলে ফিরে যান সুইস ফরোয়ার্ড।

একজন বেশি নিয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পাঁচজনের রক্ষণভাগ তৈরি করে নিজেদের বক্সের সামনে দেয়াল তুলে দেয় সুইজারল্যান্ড। শেষ দিকে মেসির বাঁকানো শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান কোবেল।

অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে চেপে ধরে আর্জেন্টিনা। বদলি নামা থিয়াগো আলমাদার দুটি প্রচেষ্টা সামলান কোবেল। মেসির ফ্রি-কিক আটকে যায় মানবদেয়ালে, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড চলে যায় বাইরে। প্রথম ১৫ মিনিটেও সুইস প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

অবশেষে ১১২ মিনিটে আসে অপেক্ষার অবসান। দুই মিনিট আগে মাঠে নামা হোসে মানুয়েল লোপেজের পাস বক্সের বাঁ প্রান্তে পান আলভারেজ। কয়েকটি স্পর্শে জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের বাঁকানো শট নেন তিনি। কোবেলের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জড়িয়ে যায় দূরের ওপরের কোণে।

চলতি বিশ্বকাপে এটিই আলভারেজের প্রথম গোল। এমন একটি সময়ে সেটি এলো, যখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে আরেকটি হতাশাজনক টাইব্রেকারের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

শেষ আট মিনিটে আর সমতায় ফিরতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। উল্টো তারা যোগ করা সময়ে গোল খেয়ে বসে।

১০ জন নিয়েও দীর্ঘ সময় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আটকে রাখা দলটি বিদায় নিয়েছে মাথা উঁচু করেই। আর টানা তৃতীয় নকআউট ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।

এবার সামনে ইংল্যান্ড। আটলান্টায় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দুই পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী।