ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৩:২৫:০৬ AM

স্বামীকে হারানোর পর কঠিন সিদ্ধান্তে পেচিয়াম্মাল

স্টাফ রিপোটার।। দৈনিক সমবাংলা
12-07-2026 08:05:09 PM
স্বামীকে হারানোর পর কঠিন সিদ্ধান্তে পেচিয়াম্মাল

ভারতের তামিলনাড়ুর একটি ছোট্ট গ্রামে স্বামীকে হারানোর পর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল এস. পেচিয়াম্মালকে।একমাত্র মেয়েকে নিরাপদে বড় করে তোলার জন্য তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে টানা ৩৬ বছর একজন পুরুষের ছদ্মবেশে জীবন কাটিয়েছেন। বর্তমানে ৬১ বছর বয়সী পেচিয়াম্মালের বাড়ি তামিলনাড়ুর কাট্টুনায়াক্কানপট্টি গ্রামে। মাত্র ২০ বছর বয়সে বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা যান। এরপর তিনি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একাই জীবনসংগ্রাম শুরু করেন। কিছুদিন পর জন্ম নেয় তার কন্যাসন্তান।

সংসার চালাতে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে একাকী কর্মজীবী নারী হিসেবে বারবার যৌন হয়রানি ও নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হন তিনি।

এসব পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই নিজের পরিচয় বদলে ‘মুথু’ নামে নতুন জীবন শুরু করেন পেচিয়াম্মাল।

তিনি চুল ছোট করে ফেলেন, পুরুষদের পোশাক পরতে শুরু করেন এবং সবার কাছে নিজেকে একজন পুরুষ হিসেবেই পরিচয় দেন।

পরবর্তীতে মা-মেয়ে নতুন একটি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে শুধু তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয় ও মেয়ে জানতেন যে, ‘মুথু’ আসলে একজন নারী।

এই পরিচয়ে তিনি নির্মাণশ্রমিক, রংমিস্ত্রি, চায়ের দোকানের কর্মী, পরোটা প্রস্তুতকারকসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। কঠোর পরিশ্রম করে অল্প অল্প করে অর্থ সঞ্চয় করেছেন, যাতে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও স্বচ্ছল হয়।

পেচিয়াম্মাল জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘মুথু’ নামটিই তার প্রকৃত পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। এমনকি আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং ব্যাংক হিসাবসহ বিভিন্ন সরকারি নথিতেও তিনি ‘মুথু’ নাম ব্যবহার করেছেন।

বর্তমানে তার মেয়ে শনমুগাসুন্দরী বিবাহিত। তবে পেচিয়াম্মাল আর আগের পরিচয়ে ফিরতে চান না।

তার ভাষায়, ‘মুথু’ পরিচয়ই তার মেয়ের জন্য একটি নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করেছে। তাই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পরিচয়েই বাকি জীবন কাটাতে চান।