ঢাকা, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ১১:১০:১৯ AM

ত্যাগী নেতাকর্মীরাই বিএনপির একমাত্র শক্তি

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
01-09-2026 08:17:11 PM
ত্যাগী নেতাকর্মীরাই বিএনপির একমাত্র শক্তি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে—দলের ভেতরে এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলের জন্য গত ১৭ বছরে যারা নানা প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদানের বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতা বলেন, দলের জন্য যারা দীর্ঘদিন ধরে জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন, দুঃসময়ে দলকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, তাদের অবদান দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন। কারও ত্যাগ ও অবদান তিনি ভুলে যাননি। তবে সবকিছু একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরাই দলের মূল শক্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় যারা দলের প্রতি আনুগত্য ধরে রেখেছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের পাশে থেকেছেন, তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার। এজন্য নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

দলের ওই দায়িত্বশীল নেতা আরও বলেন, কাউকে অবমূল্যায়ন করার কোনো উদ্দেশ্য নেতৃত্বের নেই। বরং দলের জন্য কার কী অবদান, কে কোন সময়ে কী ভূমিকা রেখেছেন এবং কে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতে দায়িত্ব ও মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে গত দেড় দশকের বেশি সময়ে যারা মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ভূমিকা দল গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত, তাদের অনেকেই দলকে শুধু একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেখেন না; বরং দলীয় আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা থেকেই তারা রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকেই দলের নেতাকর্মীরা কঠিন সময়ে সংগঠনকে আগলে রেখেছেন।

ওই নেতা বলেন, দুঃসময়ে যারা দলের পাশে ছিলেন, তারাই বিএনপির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। তাই কোনো নেতাকর্মীরই হতাশ বা ধৈর্যহারা হওয়ার কারণ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দায়িত্ব বণ্টন ও সাংগঠনিক মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও বিএনপির ওই নেতা নেতাকর্মীদের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, দলীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আবেগের পরিবর্তে সাংগঠনিক বাস্তবতা, দীর্ঘদিনের ভূমিকা এবং পরীক্ষিত নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীর অবদান দলের ইতিহাসের অংশ। তাই কারও ত্যাগ বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নেই। যারা দুঃসময়ে দলকে ধরে রেখেছেন, ভবিষ্যতে তাদেরই সাংগঠনিকভাবে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। এজন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসা অটুট রাখার আহ্বান জানান তিনি।