ঢাকা, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ১২:১৮:৩৫ PM

হুমায়ুন কবির: কূটনীতিতে নতুন দায়িত্ব

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
26-08-2026 11:08:13 AM
হুমায়ুন কবির: কূটনীতিতে নতুন দায়িত্ব

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট তিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেন। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৩ আগস্টের পরিপত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদনে তাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার হবসপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির মাত্র আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা, উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনেও যুক্তরাজ্যের সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

রাজনীতিতেও তাঁর পথচলার শুরু যুক্তরাজ্যে। তিনি ব্রিটিশ লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো শাখার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাদেশি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তাঁকে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ফলে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই হুমায়ুন কবিরের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিধি স্পষ্ট হয়। সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ছয় মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ভারত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস ও ফিলিপাইনসহ অন্তত ১১টি দেশ সফর করেছেন। এসব সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমানে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বও বেশ বিস্তৃত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে তিনি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়, অনাবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব দেখভাল করবেন। অর্থাৎ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তাঁর কর্মপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাঁর অবস্থান আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে নয়; জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে। এ বক্তব্য থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি অবস্থান স্পষ্ট হয়।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েও রাজনৈতিক ও আইনগত আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবিরকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলেও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পরবর্তীতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, হুমায়ুন কবির ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন এবং তাঁকে সংবিধান মেনেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিয়োগে কোনো সাংবিধানিক ব্যত্যয় হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবিরের বর্তমান দায়িত্বকে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটভূমি এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয় দেখভালের দায়িত্ব তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এখন তাঁর কার্যক্রমের মূল পরীক্ষা হবে—আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে এবং বাস্তব কূটনৈতিক অর্জনে রূপ দিতে পারেন।