বিএনপির দীর্ঘদিনের দুর্দিনে মাঠে থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা রুহুল কবির রিজভীকে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই মনে করছেন, রিজভীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া শুধু দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘদিন মাঠে থাকা নেতা-কর্মীদেরও এক ধরনের স্বীকৃতি।
বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, দলের কঠিন সময়ে রিজভী আহমেদকে নিয়মিতভাবে দলীয় কার্যালয়ে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচির তথ্য নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং দলের মুখপাত্র হিসেবে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকে যখন নানা কারণে মাঠে অনুপস্থিত ছিলেন, তখন রিজভীকে দলীয় কার্যালয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং বিপদের সময়ে সহযোগিতার চেষ্টা করার কারণে তৃণমূলে তার একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে যারা মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রেও রিজভীর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ কারণে দলের তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী তাকে নিজেদের ‘আপনজন’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
রিজভীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে আনন্দ সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মাঠের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা—এমনটাই মনে করছেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের মূল্যায়নের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতা বলেন, দলের দুঃসময়ে অনেক নেতা-কর্মী ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা সমস্যায় পড়লেও সব সময় কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। কিন্তু রিজভীর কাছে গিয়ে নিজেদের কষ্টের কথা বলা কিংবা সহযোগিতা চাওয়ার সুযোগ তারা পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা করছেন তারা।
দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাও রিজভীর এ দায়িত্বপ্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।
বিএনপির মাঠের নেতা-কর্মীদের কাছে রিজভীর নতুন দায়িত্ব তাই কেবল একজন নেতার পদোন্নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং তারা এটিকে দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা, মামলা-হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
তাদের ভাষায়, রিজভীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হলে দলের তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে। একই সঙ্গে মাঠের নেতা-কর্মীদের সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তারা।
ফলে রুহুল কবির রিজভীর নতুন দায়িত্বকে ঘিরে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নেতা-কর্মীদের আশা, দীর্ঘদিনের মাঠের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি দলকে আরও সংগঠিত করবেন এবং নেতা-কর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করবেন।