রাজধানীর কমলাপুরে কাস্টমস হাউস আইসিডির তৎপরতায় রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল (আরআরসি) খেলনা ঘোষণায় আমদানি করা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৮০ পিস ড্রোন আটক করা হয়েছে। আটক করা এসব ড্রোনের মোট ওজন ৬৫৮ কেজি। আমদানির সময় পণ্যগুলো সঠিকভাবে ঘোষণা না করায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালানটি আটক করে।
কাস্টমস হাউস আইসিডি, কমলাপুর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাস্টমস হাউস আইসিডি ঢাকার কমিশনারের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট চালানটি নজরদারিতে আনা হয়। পরে কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে ঘোষণার বাইরে বিপুলসংখ্যক ড্রোন থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, ঢাকার চকবাজারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মিম কালেকশনের নামে চালানটি আমদানি করা হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের বিল অব এন্ট্রি (বি/ই) নম্বর-১২৩৬৭-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খেলনা ঘোষণায় পণ্যচালানটি আমদানি করা হয়েছিল। কাগজপত্রে রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল খেলনাসহ বিভিন্ন খেলনার ঘোষণা দেওয়া হলেও কায়িক পরীক্ষায় চালানটির মধ্যে ঘোষণার বাইরে ১ হাজার ৯৮০ পিস ড্রোন পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে আমদানি করা পণ্যের মিল না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আটক ড্রোনগুলোর প্রকৃত মূল্য, বৈশিষ্ট্য, উড্ডয়নসীমা এবং আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা হবে। এসব যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, চালানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও প্রযোজ্য জরিমানা আদায়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোনগুলো আমদানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং প্রযোজ্য বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কাস্টমস হাউস আইসিডি ঢাকার কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নীতির পরিপন্থী কার্যক্রম এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস হাউস আইসিডি ঢাকা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমদানি করা পণ্যের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের মিল নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে চালান পরীক্ষা ও নজরদারি করা হচ্ছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আটক ড্রোনগুলোর উড্ডয়নসীমা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের পর এগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি চালানটির আমদানি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
কাস্টমস হাউস আইসিডির এই অভিযানকে আমদানি ঘোষণার বাইরে পণ্য আনা এবং রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে চলমান নজরদারির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমদানি নীতিমালা ও কাস্টমস আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো পণ্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।