ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
সময়: ০৪:৩৪:৫২ AM

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির আলোচনায় যারা

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
21-02-2026 11:33:48 AM
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। একই দিন বিকেলে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান শপথ গ্রহণ করেন, পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। সরকার গঠনের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে, রমজান মাসের মধ্যেই ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি ২১১টি আসনে জয় পেয়েছে। এ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির ভাগে পড়তে পারে ৩৬টি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, তারা পেতে পারে ১২টি সংরক্ষিত আসন। এনসিপি ৬টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেত্রীরা। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীদের দাবি—দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে যারা ছিলেন, তারাই এসব আসনের প্রকৃত দাবিদার।

মহিলা দলের নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৮ বছর রাজপথে ছিলাম, দলের জন্য কাজ করেছি। হামলা-মামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আশা করি, দলের চেয়ারম্যান আমাদের মূল্যায়ন করবেন।” তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ-এ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। পরে মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের ‘সুপার ফাইভ’-এ দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে ত্যাগী ও অপেক্ষাকৃত তরুণ নেত্রীদের প্রাধান্য দিতে পারে হাইকমান্ড। পাশাপাশি প্রবীণ নেত্রীদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ সুযোগ পেতে পারেন। ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে সরে গেছেন, তবে কেউ কেউ এখনো সক্রিয় আছেন।

আলোচনায় সর্বাগ্রে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনের এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী এবং যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রথম সারিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্যদের তালিকায় আরও রয়েছেন—আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, শিরিন সুলতানা, নিলোফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।

এছাড়া আলোচনায় আছেন নিপুন রায় চৌধুরী, শাহানা আক্তার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, শাহিনুর নার্গিস, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন ও শাহিনুর সাগর। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপার নামও আলোচনায় রয়েছে।

হেলেন জেরিন খান বলেন, “আমরা ছাত্রজীবন থেকে দলের সঙ্গে আছি। গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তবে দল ছেড়ে কোথাও যাইনি। আশা করি, দলের হাইকমান্ড ত্যাগীদের মধ্য থেকেই নির্বাচন করবে।”

বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, ইসি তফসিল ঘোষণা করলেই দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের হাইকমান্ড। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর—রমজানের মধ্যেই ঘোষিত হতে যাওয়া সেই তালিকার দিকে।