ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০২:০৫:২৩ AM

নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে:প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
16-08-2026 08:27:14 PM
নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে:প্রধানমন্ত্রী

দেশের নারীদের অনার্স (স্নাতক) পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নারী সমাজকে শিক্ষায় পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।

রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি শিক্ষায় পিছিয়ে রাখা হয়, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের মনোযোগ দিয়ে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে হবে। তোমরা বড় হয়ে যেন দেশের হাল ধরতে পারো, সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।’ পাশাপাশি ভালো ফলাফল অর্জনকারী ছাত্রীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের প্রতি বছর একটি করে স্কুল ড্রেস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও তুলে দেওয়া হবে। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারী সমাজকে শুধু শিক্ষায় এগিয়ে নিলেই হবে না, তাদের অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবারের নারী প্রধান বা সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হচ্ছে।

মাছের পোনা অবমুক্তকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীতে অবমুক্ত করা এসব মাছ বড় হয়ে ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষই উপকৃত হবে। তিনি বলেন, এসব মাছের উপকার লন্ডন বা জাপানের মানুষ পাবে না; বাংলাদেশের মানুষই এর সুফল ভোগ করবে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ স্থানীয় মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ করেন।