ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৮:৪৯:৫৭ PM

মাথায় মামলার বোঝা, আদর্শে অটল সোহেল

মান্নান মারুফ
03-09-2026 07:20:40 PM
মাথায় মামলার বোঝা, আদর্শে অটল সোহেল

হাসি-খুশি, প্রাণবন্ত ও সহজ-সরল স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবি, প্রাপ্তি কিংবা ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কখনো করেননি—এমনটাই তার দাবি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে দলকে আরও শক্তিশালী ও এগিয়ে নিতে কাজ করে যাওয়াই তার রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

সোহেলের ভাষ্য, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় থেকেই তিনি রাজনীতি করছেন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন এবং তাদের কাছাকাছি থাকাকেই তিনি রাজনৈতিক জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দলকে আঁকড়ে ধরেই জীবনের বাকি সময় পার করতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সোহেল। বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পাশাপাশি একসময় সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় নানা আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন এই নেতা।

তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির প্রত্যাশা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সোহেল। তার ভাষায়, রাজনীতি করে কী পেলেন আর কী পেলেন না—সেটি নিয়ে তার কোনো হিসাব নেই। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও নেই। দল প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্ব দেবে, আর প্রয়োজন মনে না করলে তা নিয়েও কোনো আক্ষেপ থাকবে না।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যার কথাও তুলে ধরেছেন বিএনপির এই নেতা। তার দাবি, একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ৩৬০ ছাড়িয়ে যায়। পরে মামলার সংখ্যা ৩৬৫-তে পৌঁছালে তিনি বিষয়টিকে ক্রিকেটের একটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করেন।

সোহেল বলেন, একদিন হিসাব করে দেখলেন তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৬০টি মামলা হয়েছে। তখন তার মনে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান স্যার গারফিল্ড সোবার্সের টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৩৬৫ রানের বিশ্বরেকর্ডের কথা। যেদিন তার মামলার সংখ্যা ৩৬৫-তে পৌঁছায়, সেদিন মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে রসিকতা করে তিনি বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান গারফিল্ড সোবার্সের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি।

এরপর মামলার সংখ্যা যখন ৪০০-তে পৌঁছায়, তখনও মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল বলে জানান সোহেল। সেদিন তিনি বলেন, ক্রিকেটে গারফিল্ড সোবার্সের ৩৬৫ রানের রেকর্ড ভেঙে ব্রায়ান লারা ৪০০ রান করেছিলেন; আর নিজের মামলার সংখ্যা ৪০০ হওয়ায় তিনি রসিকতা করে দাবি করেন, এবার তিনি ব্রায়ান লারার রেকর্ডও ‘ভেঙে ফেলেছেন’।

সোহেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা, গ্রেপ্তার ও নানা ধরনের হয়রানি চলতে চলতেই তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ৪৫১-এ পৌঁছেছে। রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ ও কঠিন অভিজ্ঞতাকেও তিনি ব্যক্তিগত হতাশা হিসেবে দেখছেন না। বরং দলের প্রতি আনুগত্য এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।

সোহেলের রাজনৈতিক বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ত্যাগ, আদর্শ ও দলীয় আনুগত্যের বিষয়টি। পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার প্রত্যাশার চেয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তার মতে, রাজনৈতিক জীবনে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব না করে মানুষের জন্য কাজ করাই একজন রাজনীতিকের প্রকৃত দায়িত্ব।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মামলা ও নির্যাতনের নানা অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও সোহেলের এই প্রত্যাশাহীন অবস্থান বিএনপির রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও দলীয় আনুগত্যেরই প্রতিফলন বলে মনে করেন তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। ভবিষ্যতেও দলীয় সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুসরণ করেই রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।