ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:১৫:২৪ AM

বস্তাবন্দি কিশোরীর পরিচয় পেয়েছে পুলিশ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-07-2026 11:18:43 AM
বস্তাবন্দি কিশোরীর পরিচয় পেয়েছে পুলিশ

খুলনার নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি এক কিশোরীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)। তিনি খুলনা ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আলীম হোসেন আকাশের মেয়ে। নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা জানান, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদে মেয়ের মরদেহের ছবি দেখে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যান। সেখানে গিয়ে মরদেহটি তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কের একটি সাততলা ভবনের সামনে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বাড়ির ছাদ থেকে তাকে দেখতে পেয়ে আবার বাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। পরে দুপুরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকাকালে সবার অজান্তে সে আবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে নির্জনা একটি চিঠি লিখে রেখে যায়। চিঠিতে লেখা ছিল, “আমার কোনো খোঁজখবর তোমরা নিও না।” এরপর প্রতিবেশীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মরদেহের ছবি দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি নির্জনারই মরদেহ।

নির্জনার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল সে বাড়ি থেকে পালিয়ে তেরখাদা উপজেলার পালেরহাট আজগরা গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান রনিকে বিয়ে করে। বিয়ের তিন দিন পর নির্জনা পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানায়, সে ভালো আছে। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রনির চরিত্র নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রায় ১৭ দিন পর নির্জনাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

মা আরিফা ইয়াসমিন সীমার দাবি, বাড়িতে ফেরার পরও রনি নিয়মিত নির্জনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর অভিযোগ, রনি কৌশলে নির্জনাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ নিরালা প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রেখে গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

নির্জনার মা আরও জানান, এর আগেও ফকিরহাট উপজেলার বারইপাড়া এলাকার ইকলাসুরের ছেলে মনিরুজ্জামান মনির সঙ্গে নির্জনার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সেখানে মাত্র একদিন অবস্থান করার পর সে বাবার বাড়িতে ফিরে আসে।

এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এদিকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।