ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:১৫:১১ AM

কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে কার প্রভাব কতটা

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-07-2026 09:03:10 PM
কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে কার প্রভাব কতটা

কেরানীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে কার প্রভাব কতটা, সাধারণ মানুষ কাদের কাজকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন আর কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে একটি মিশ্র চিত্র। বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের মধ্যে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি রয়েছে সমালোচনা ও অসন্তোষও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কয়েকজন সিনিয়র নেতার অবদান এখনো অনেকেই স্মরণ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে অনেকে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে কিছু নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

একজন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দা চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ওই নেতার জনপ্রিয়তা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক একজন সংসদ সদস্যর প্রশংসা করেছেন সবাই। তার ব্যাপারে কেউই কটুক্তি বা সমালোচনা করেন নি। তবে তার সেল্টারে চলা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের অত্যাচার নির্যাতন নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া বর্তমান সময়ের একজন নারী নেত্রী এবং একজন সাবেক প্রভাবশালী ছাত্রনেতাকে ঘিরেও নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।

একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, সাবেক ওই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা না থাকলেও অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে তাকে "ল্যান্ড নেতা" বলেও উল্লেখ করেন, কারণ তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সংখ্যক ল্যান্ড থাকার কথা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে আসেনি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

একইভাবে ওই নারী নেত্রীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, চাঁদাবাজির পাশাপাশি দলীয় পদ-পদবি বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা দাবি করেন, রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কারণেও তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছড়ানো হয়।

প্রবীণ এক নেতার প্রসঙ্গেও ভিন্নমত দেখা গেছে। কয়েকজনের মতে, তিনি একজন ভাল মানুষ। একসময় এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও বর্তমানে আগের মতো এলাকায়  আসেন না। ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার দূরত্ব কিছুটা বেড়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে তার জনপ্রিয়তা কমেনি বলেন তারা। তবে এই নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অবদানের প্রশংসাও করেছেন অনেকে।

অন্যদিকে, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মন্তব্য শোনা গেছে যুবনেতা রেজাউল করিম পলকে নিয়ে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ব্যক্তিগত আচরণ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে তিনি অনেকের কাছে প্রশংসিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রেজাউল করিম পলের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো অপকর্ম বা বিতর্কের অভিযোগ তারা শোনেননি। বরং তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কয়েকজন বলেন, দিনের অধিকাংশ সময়ই তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত থাকেন।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, "নেতা বলতে আমরা এমন কাউকেই বুঝি, যিনি মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকেন। রেজাউল করিম পলকে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজে দেখতে পাই।"

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, "তিনি শুধু দলীয় কর্মীদের খোঁজ নেন না, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও শোনেন। কারও অসুস্থতা, দুর্ঘটনা কিংবা পারিবারিক সংকটের খবর পেলেই সহযোগিতার চেষ্টা করেন।"

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয়তা কিংবা অভিযোগ—দুই ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত। একইভাবে কারও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও বাস্তব কাজের মাধ্যমে মূল্যায়িত হওয়া প্রয়োজন।

কেরানীগঞ্জের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, জনগণ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং একজন নেতা কতটা মানুষের পাশে থাকেন, কতটা স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এলাকার উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখেন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে যেমন বিতর্ক ও অভিযোগের আলোচনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইতিবাচক নেতৃত্বের প্রত্যাশাও। স্থানীয়দের মতে, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের আরও বেশি জনসম্পৃক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে।