ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:১৬:০৪ AM

রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী ছাত্রনেতা রফিক

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-07-2026 03:35:56 PM
রাজপথের পরীক্ষিত ও ত্যাগী ছাত্রনেতা রফিক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যাদের পরিচয় কোনো পদ-পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের ভালোবাসা, ত্যাগ, আদর্শ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামই তাদের প্রকৃত পরিচয় হয়ে ওঠে। খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) অঞ্চলের সাবেক ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক তেমনই একজন রাজনৈতিক কর্মী, যিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শ ধারণ করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কাজীমুছা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রফিকুল ইসলাম রফিক। ছোটবেলা থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। সেই পারিবারিক আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনা থেকেই ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও পরে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রফিকুল ইসলাম রফিক নিজেকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শবান কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ছাত্রদলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দলের প্রয়োজনে রাজপথে থেকেছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন এবং দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর মতে, সংগঠনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর অন্যতম অঙ্গীকার। ছাত্রজীবন থেকেই অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেন তাঁর নেশায় পরিণত হয়েছিল। এলাকার কোনো ব্যক্তি আর্থিক সংকটে পড়লে কিংবা কোনো পরিবার বিপদে পড়লে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন তিনি। মানুষের দুঃখ-কষ্টের খবর রাখা, দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বর্তমানেও তিনি নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, তিনি সহজ-সরল জীবনযাপন এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে এলাকায় ব্যাপকভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয়।

বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর দৃষ্টিতে রফিকুল ইসলাম রফিক একজন পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দলের কঠিন সময়ে তিনি কখনও রাজনীতি থেকে সরে যাননি। গত প্রায় ১৬ বছর ধরে নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, চাপ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বরং সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন এবং তাদের পাশে থেকেছেন। রাজনৈতিক সংকটের সেই সময়গুলোতে তাঁর ভূমিকা আজও অনেক নেতাকর্মীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

দীর্ঘদিনের এই ত্যাগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়েছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আশাবাদ। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। একইভাবে, যুবদলের সদ্য ঘোষিত ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতেও তাঁর স্থান হয়নি। এই সিদ্ধান্তে তাঁর সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। তাদের অনেকের প্রশ্ন—দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এবং দলের দুঃসময়ে অবিচল থাকা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন কি হচ্ছে?

রাজনীতিতে পদ-পদবির চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অনেক বড় অর্জন। রফিকুল ইসলাম রফিক সেই ভালোবাসা অর্জন করেছেন বলেই আজও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন আপনজন হিসেবে পরিচিত। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে মানুষের কল্যাণ এবং দলের আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

একজন রাজনৈতিক কর্মীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর ত্যাগ, আদর্শ, সততা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। রফিকুল ইসলাম রফিকের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা সেই পরিচয়েরই একটি উদাহরণ। দলীয় পদ না থাকলেও কিংবা কাঙ্ক্ষিত মনোনয়ন না পেলেও তিনি মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসেননি। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও আগের মতোই অটুট।

রাজনীতির ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ত্যাগী কর্মীদের অবদান কখনও হারিয়ে যায় না। সময়ের ব্যবধানে হয়তো মূল্যায়ন বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু আদর্শ, সততা এবং মানুষের ভালোবাসা একদিন না একদিন যথাযথ স্বীকৃতি পায়। রফিকুল ইসলাম রফিকের দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা ভবিষ্যতেও তাঁকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।