ঢাকা, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৫:১৮:৫১ PM

১১ সালের ৬ জুলাইয়ের এক ভয়াবহ স্মৃতি

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
17-08-2026 01:18:27 PM
১১ সালের ৬ জুলাইয়ের এক ভয়াবহ স্মৃতি

নোয়াখালীর সেনবাগের সন্তান বিএনপির প্রবীণ নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা এই রাজনীতিকের জীবনে ২০১১ সালের ৬ জুলাই হয়ে আছে এক ভয়াবহ স্মৃতি। সেদিনের ঘটনা শুধু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসেও একটি আলোচিত অধ্যায়।

২০১১ সালের ৬ জুলাই জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় তৎকালীন বিরোধী দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলায় গুরুতর আহত হন জয়নুল আবদিন ফারুক। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সেদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ফারুকের ওপরও ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয়। তাঁকে রাইফেলের বাট দিয়েও আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেদিনের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশের হামলায় ফারুককে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখা যায়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী দল অভিযোগ করেছিল, তাঁকে লক্ষ্য করেই হত্যার উদ্ধেশ্যে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। 

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই দিনের স্মৃতি আজও ফারুককে তাড়িয়ে বেড়ায়। ভয়াবহ সেই নির্যাতনের কথা মনে পড়লে তাঁর মনে ফিরে আসে রক্তাক্ত সেই দৃশ্য। কখনো কখনো রাতের ঘুমেও সেই দুঃসহ স্মৃতি তাঁকে নাড়া দেয়। হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, মনে হয় যেন আবারও তিনি ফিরে গেছেন সেই ভয়াবহ দিনে। শারীরিক ক্ষত হয়তো অনেকটাই সেরে গেছে, কিন্তু মানসিক ক্ষত যে কতটা গভীর, তা তাঁর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই বোঝা যায়।

জয়নুল আবদিন ফারুকের কাছে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়—এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আবেগ ও বিশ্বাসের জায়গা। দলের সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতীক হিসেবে দেখেন। আর তারেক রহমানকে মনে করেন দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক। এই বিশ্বাস ও আদর্শকে ধারণ করেই জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ২০১১ সালের ৬ জুলাইয়ের সেই ঘটনা জয়নুল আবদিন ফারুকের জীবনে এক অমোচনীয় স্মৃতি হয়ে আছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংযত আচরণ—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফারুকের সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি তাই কেবল একজন রাজনীতিকের ব্যক্তিগত বেদনার গল্প নয়; এটি রাজনৈতিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় আচরণের প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।