পবিত্র ঈদুল আজহা আর মাত্র এক দিন বাকি। তবে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে যাত্রী দুর্ভোগের চিত্র যেন থামছেই না। ঈদযাত্রার শুরু থেকেই এ রুটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করার নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি তার বিপরীত। দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক যাত্রী ঢাকা থেকে রওনা দিয়েও ১২ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল অতিক্রম করতে পারছেন না।
সড়কের এই দুঃসহ চিত্র এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কথা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।একই সঙ্গে যানজটে আটকে থাকার কারণে সময়মতো এলাকায় পৌঁছে গরিব-অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঈদ সহযোগিতার জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লক্ষ টাকা সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণের কর্মসূচি ছিল আজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ১০০০ জন অসহায় মানুষের মাঝে মাথাপিছু এক হাজার টাকা করে সরাসরি লোকজনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সকাল ১০টা ও ১১টায় দুটি ভিন্ন স্থানে এই বিতরণ কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।
ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে বুধবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি টাঙ্গাইলেই আটকে থাকেন। ফলে যথাসময়ে কর্মসূচিতে উপস্থিত হতে না পেরে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বারবার ঈদযাত্রায় জনগণের স্বস্তির কথা দাবি করা হলেও মহাসড়কের বাস্তব পরিস্থিতি যে কতটা শোচনীয়, তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেছেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, একদিকে যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদযাত্রায় জনগণের স্বস্তির কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। যানজটের কারণে মানুষের দুঃসহ ভোগান্তির বাস্তব চিত্র আমি নিজে উপলব্ধি করছি। ১২ ঘণ্টায় আমি ঢাকা থেকে মাত্র টাঙ্গাইল পৌঁছেছি।এ সময় মহাসড়কের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি না দেখার সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে তীব্র যানজট থাকলেও রাস্তা সচল করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, এই লম্বা জার্নিতে রাস্তার কোথাও ট্রাফিক পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।