ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এই মহিমান্বিত উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়। তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দারিদ্র্যের কারণে সমাজের অনেক মানুষ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকেন। এমন বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সেই ধারাবাহিকতায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী ঈদ উপলক্ষে এলাকার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত হয়েছেন।
ঈদকে সামনে রেখে ইয়াসের খান চৌধুরী নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন। শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একজন জনসেবক হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করার আন্তরিক প্রচেষ্টা তার কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও তিনি একই রকম আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের মতামত ও সমস্যার কথা শুনেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ এবং কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক পরিবার, যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ঈদের পূর্ণ আনন্দ উপভোগ করতে পারতেন না, তারা এই সহযোগিতার মাধ্যমে ঈদের আনন্দে অংশ নিতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম সমাজে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার চেতনা আরও শক্তিশালী করে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। তিনি ১৯৮২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মাতা রাহাত খান চৌধুরী। পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা ইয়াসের খান চৌধুরী পরবর্তীতে নিজ যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রযুক্তি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাধারার একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশে ফিরে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নান্দাইল উপজেলা আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে তিনি ৮৫ হাজার ৭৬১ ভোট লাভ করে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একেএম আনোয়ারুল ইসলাম পান ৭১ হাজার ১৬৮ ভোট। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি জাতীয় সংসদে নান্দাইলবাসীর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ লাভ করেন।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইয়াসের খান চৌধুরী। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, গণমাধ্যমের উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রবাহকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি মনোনীত হন। এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততা ও মানবিক কর্মকাণ্ড একজন নেতার জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ইয়াসের খান চৌধুরীর সাম্প্রতিক ঈদ কার্যক্রম সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি তাকে একজন মানবিক ও জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
নান্দাইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত মূল্যায়ন হয় জনগণের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে। ইয়াসের খান চৌধুরী ঈদকে কেন্দ্র করে যে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তা শুধু সাময়িক সহায়তা নয়; বরং মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তার এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর ঈদ উপলক্ষে পরিচালিত মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড জনসেবামূলক রাজনীতির একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নমুখী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে তিনি নান্দাইল তথা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।