ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬,
সময়: ১১:৪০:২৮ PM

ঈদুল আজহায় সাধারন মানুষের পাশে জামায়াত

মান্নান মারুফ
01-06-2026 11:23:57 AM
ঈদুল আজহায় সাধারন মানুষের পাশে জামায়াত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ, নিম্নআয়ের পরিবার, গরিব ও অসহায়দের মাঝে কোরবানির মাংস এবং ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে অংশ নেন জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, মানবসেবা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং গ্রাম পর্যায়ে ব্যাপকভাবে কোরবানির মাংস বিতরণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে ঈদ সামগ্রীও পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে তারা ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন।

জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই, মাংস সংরক্ষণ এবং সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের কাজ সম্পন্ন করেন। অনেক স্থানে স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে তা দরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি উপজেলা ও থানা পর্যায়েও ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হয়। শহরের উপশহর এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাংস বিতরণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। অনেকে আবার তালিকা প্রস্তুত করে পূর্বনির্ধারিত পরিবারগুলোর কাছে মাংস ও প্রয়োজনীয় ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেন। ফলে বয়স্ক, অসুস্থ ও কর্মক্ষমতাহীন ব্যক্তিদেরও আলাদা করে কষ্ট করতে হয়নি। বরং আনন্দে ঈদ করতে পারছেন।

মাংস বিতরণের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীও অনেক পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, শুধু ঈদের দিন নয়, ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। অনেক পরিবার প্রথমবারের মতো পর্যাপ্ত কোরবানির মাংস পেয়েছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উপকারভোগীদের মধ্যে অনেকেই এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন যদি এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে, তাহলে দরিদ্র মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়। বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিম্নআয়ের মানুষের জন্য কোরবানির মাংস ও খাদ্যসামগ্রী বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।

জামায়াতের নেতাকর্মীরা জানান, দলটি দীর্ঘদিন ধরে ঈদ, রমজান ও বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এবারের ঈদুল আজহাতেও তারা ব্যাপক পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, বরং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে দলটির কম আয়ের নেতাকর্মীদের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের স্বল্প আয়ের সদস্য ও কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে কোরবানির মাংস এবং ঈদ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সহায়তায় আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংগঠনের দায়িত্বশীলরা মনে করেন, যারা বছরজুড়ে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সময় ও শ্রম দেন, তাদের কল্যাণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, জনসেবামূলক কার্যক্রম রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা এও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যেন সাময়িক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছরব্যাপী সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অব্যাহত থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন এলাকায় মাংস বিতরণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়। তারা তালিকা অনুযায়ী উপকারভোগীদের মাঝে মাংস বিতরণ করেন এবং কোথাও যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর রাখেন। ফলে অধিকাংশ স্থানে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানিয়েছেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বিভিন্ন সংগঠন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা একইভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা। সেই চেতনা ধারণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির মাংস ও ঈদ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। দলটির দাবি, ভবিষ্যতেও সমাজের গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পরিচালিত এ উদ্যোগে উপকৃত বহু পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রত্যাশা, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও সংগঠন মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে এলে দেশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।