ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬,
সময়: ১১:৩১:১১ PM

কার্যক্রম স্থবির,নিষিদ্ধ আ”লীগের তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা

স্টাফ রিপোটার।। ঢাকাপ্রেস২৪.কম
03-06-2026 05:10:29 PM
কার্যক্রম স্থবির,নিষিদ্ধ আ”লীগের তৃণমূলে বাড়ছে হতাশা

ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এখন এক কঠিন সাংগঠনিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করলেও অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। দেশে অবস্থানরত অনেক নেতা গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি আছেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয় বন্ধ। ফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক যোগাযোগ দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

 অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকারের সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় । এরপর থেকে দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা চললেও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে দেশের কোথাও কোথাও ঝটিকা মিছিল বের করছে দলটির কর্মীরা।

দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেকে জীবিকার তাগিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে গেছেন। ঈদসহ বিভিন্ন সামাজিক সময়েও বহু নেতা-কর্মী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এখন মূলত অনলাইনভিত্তিক হয়ে পড়েছে। বিদেশে অবস্থানরত কিছু নেতা জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে দেশে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা যায়। ভারত, দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নেতারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাংগঠনিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এছাড়া ঢাকার কিছু নির্বাচনী এলাকায় অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে সীমিত রাজনৈতিক সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে বলে খবর রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন সাবেক কাউন্সিলর ও নেতা এসব মিটিংয়ে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। তবে এসব কার্যক্রম সংগঠনের সামগ্রিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দলটির নামে সক্রিয় কিছু গ্রুপ ও পেজ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে বলে জানাযায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর কিছু কর্মী অনলাইন কার্যক্রমে যুক্ত থাকার খবর পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্র দাবি করছে, এসব কার্যক্রমে অর্থের বিনিময়ে প্রচারণা ও পাল্টা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে অনুপস্থিতি একটি বড় রাজনৈতিক দলের জন্য সাংগঠনিক সংকট তৈরি করে। একই সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দূরত্ব বাড়ছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে দলটি আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপরই দলটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, নেতৃত্ব সংকট এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনের দুর্বলতা—এই তিনটি বিষয় দলটির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি যেমন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা এক ধরনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম না থাকা, নেতৃত্বের অনুপস্থিতি এবং অনলাইনকেন্দ্রিক সীমিত কার্যক্রম—সব মিলিয়ে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে দলটি কীভাবে এবং কোন পথে পুনর্গঠিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।