ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১১:৫০:৪০ PM

ফেব্রুয়ারিতে প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের পরিকল্পনা এনসিপির

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.গেম
06-07-2026 09:16:18 PM
ফেব্রুয়ারিতে প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের পরিকল্পনা এনসিপির

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। কাউন্সিলের আগে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রণয়নাধীন দলীয় গঠনতন্ত্রের খসড়াও ওই কাউন্সিলে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময় হিসেবে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ বিবেচনায় রাখা হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কাউন্সিলের আগেই কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে এনসিপির কেন্দ্রীয় কাঠামোয় আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখ্য সমন্বয়ক, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দুই মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক—মোট ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কাঠামোয় এসব পদের সংখ্যা কমিয়ে ছয়টিতে নামিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব—এই ছয়টি পদকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক দায়িত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে রাখা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে থাকা মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদগুলো পুনর্বিন্যাস বা বিলুপ্ত হতে পারে। তবে দলটির নেতারা বলছেন, পদসংখ্যা কমানো হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কর্তৃত্ব কোনো ব্যক্তির হাতে নয়; বরং পলিটিক্যাল কাউন্সিলের হাতেই থাকবে।

পলিটিক্যাল কাউন্সিলই সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম

এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হচ্ছে ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ (পিসি)। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত এই ফোরামেই আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত হয়। কোনো ব্যক্তি এককভাবে দলীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না।

বর্তমানে পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ১৮। এই ফোরামে রয়েছেন আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

পরবর্তীতে দুই ধাপে আরও আটজনকে এই ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন (সিএফ) ও সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

কাউন্সিলে অনুমোদন পেতে পারে গঠনতন্ত্র

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেটি নিয়ে সাংগঠনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্রটি অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, একটি পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়াও স্পষ্ট হবে।

দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ঘিরে প্রস্তুতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটি প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করেই প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নেতাদের বক্তব্য

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি জানান, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো আহ্বায়ক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও যুগ্ম সদস্যসচিব—এই ধরনের কাঠামোর দিকেই দল এগোচ্ছে। বর্তমানে থাকা ‘মুখ্য সংগঠক’ পদ ভবিষ্যৎ কাঠামোয় রাখা হচ্ছে না।

দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এনসিপির সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পলিটিক্যাল কাউন্সিলেই নেওয়া হয়। এর বাইরে আলাদা কোনো নীতিনির্ধারণী ফোরাম নেই। তিনি জানান, গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে সেটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে, দলীয় কাঠামোর পরিবর্তন বিষয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য সামান্তা শারমিন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি এ বিষয়ে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও সারজিস আলমের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, গঠনতন্ত্র অনুমোদন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এনসিপি এগোচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দল হিসেবে সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই কাউন্সিল এনসিপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।