ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৫৬:০৬ AM

জামায়াতের গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
18-07-2026 08:14:06 PM
জামায়াতের গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি

বরিশাল, ১৮ জুলাই: জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "যে গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ রায় দিয়েছে, সেই একই দিনের ভোটের ভিত্তিতেই আপনারা সরকার দাবি করছেন। ওই গণভোট না মানলে এই সরকারও গ্রহণযোগ্য হবে না। গণভোট যদি ব্যর্থ করা হয়, তবে এই সরকারকেও ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। জনগণ আপনাদের গণভোটের রায় মানতে বাধ্য করবে, ইনশাআল্লাহ।" শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "১৯৯১ সালের পর ক্ষমতায় এসে আপনারা কেয়ারটেকার সরকারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেননি। পরে ঠিকই বুঝেছেন। আমরা বলছি, জাতির ক্ষতি করে নয়, এখনই বুঝুন। আমরা রাজপথে থাকতে চাই না; আমরা সবাই মিলে দেশ গড়তে চাই। কিন্তু যেভাবে আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে, রাজপথ জ্বলে উঠলে সেই আগুনে অনেক কিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।"

তিনি বলেন, "গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে অতীতের পচা রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা তারা আর চায় না। তারা পরিবর্তন চায়, নতুন শাসনব্যবস্থা চায়, নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।"

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আগে ঘোষণা দিয়েছিল যে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ 'হ্যাঁ' ভোট দিলে গণভোটের সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, "এখন তারা বলছে, তারা কখনো সংস্কারের কথা বলেনি। অথচ তাদের ৩১ দফার প্রথম দফাই সংস্কার।"

সংবিধান সংশোধন কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি বা সংবিধানের কোথাও সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের বিধান নেই। তবুও এমন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, পরে আবার এর নাম পরিবর্তন করে 'বিশেষ কমিটি' রাখা হয়েছে। জনগণের সঙ্গে আর কত ছলচাতুরি করবেন?"

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "২০০৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৯ বছরে দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, অসংখ্য মামলা মাথায় নিয়ে কারাবরণ করেছে। কিন্তু তারা ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করেনি। জনগণ সেই ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে। আপনারা আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন না; হয়তো ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, "ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ বহাল রাখা হয়েছে, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এগুলো আরও ভালোভাবে আনার কথা বলা হলেও ছয় মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।"

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "অবৈধ কমিটির মাধ্যমে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করা হতে পারে। পরে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা পাস করে গণভোটের নামে নতুন কৌশল নেওয়া হতে পারে। এমন কোনো ভাওতাবাজি হলে জাতি তা মেনে নেবে না।"

তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "'চব্বিশ'-এর আন্দোলনের একটি স্লোগান ছিল— 'লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে।' রক্তে আবার আগুন ধরাবেন না। এই প্রজন্মকে আর পরীক্ষা নেবেন না। তারা পরীক্ষিত, তারা বিজয়ী, তারা বীর।"

তিনি বলেন, "'জুলাই'কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা চলছে। ১৯৭১ আমাদের গর্ব, আমাদের ইতিহাসের সোনালি অধ্যায়। কিন্তু ২০২৪-কে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ১৯৭১-কে টেনে আনার প্রয়োজন নেই। ১৯৭১ তার মর্যাদায় থাকবে, ২০২৪-ও তার নিজস্ব মর্যাদায় থাকবে। ২০২৪-এর শহীদ ও গাজীদের রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো অবহেলা জাতি মেনে নেবে না।"

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।