অনশনরত শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে (৫৯) হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমতার মসনদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মোদির পদত্যাগ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে।শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় দীপকে অভিযোগ করেন, পুলিশ জোরপূর্বক ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তাকে যন্তর মন্তর মঞ্চ থেকে সরানো বিষয়ে পরিবারকেও অবগত করা হয়নি। এভাবে আন্দোলন দমন করা সম্ভব হবে না।
দীপকে বলেন, ওরা (সরকার) যদিও মনে করে যে, সোনম ওয়াংচুক স্যারকে সরিয়ে নিলেই আন্দোলন দমে যাবে, তাহলে ওরা ভুল করছে। আমরা এখানেই থাকব। অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ২০ জুলাই ভারতের সংসদ ভবন অভিমুখে পূর্বঘোষিত পদযাত্রার পরিকল্পনাও অপরিবর্তিত রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম। কিন্তু সোনম স্যারকে সরানোর জঘন্য ঘটনার পর আমরা এখন নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, ‘অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ মিছিলটি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, নয়াদিল্লিতে টানা ২১ দিন ধরে অনশনে থাকা সমাজকর্মী ও শিক্ষাসংস্কারক সোনম ওয়াংচুককে (৫৯) জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে তিনি এই অনশন শুরু করেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী সভামঞ্চ ঘিরে ফেলে, পরে স্ট্রেচারে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চলতি বছরের মে মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা চরম সংকটে পড়েন। এ ঘটনার প্রতিবাদে যুবসমাজ এবং সিজেপির ব্যানারে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।
তাদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক অনশনে বসেন। ওয়াংচুকের এই আন্দোলন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ তার এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। সূত্র: ডয়চে ভেলে, দ্য হিন্দু