পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। তাই ছুটির শেষ দিন আজ বাসে ঢাকায় ফিরছেন অনেকে। গ্রাম থেকে ঢাকায় ফেরা কর্মজীবী মানুষের ভিড় খুব বেশি না হলেও ফিরতে শুরু করেছে বলে লক্ষ্য করা গেছে। নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে, ঈদের আগের এবং ঈদের পরের দুই দিনের তুলনায় আজকে ঢাকার বাইরে যাত্রী যাচ্ছে অনেক কম। আগের মতো যাত্রী নেই বললেই চলে। ঈদের আগে কয়েকদিন এবং ঈদের পরের দুই দিন, বরিশাল, খুলনা গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, যশোহর, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী সব বাসেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। একই অভিযোগ ছিল কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও নোয়াখালীগামী যাত্রীদের। জানা গেছে, এসব রোডের ভাড়া ৩০০, ৪০০, ৫০০ টাকা। তবে ৭০০, ৮০০, ৯০০, ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ ছিল। কিন্তু এখন ৩০০ টাকা, ৪০০ টাকা হাঁকডাক দিচ্ছে। ঈদের আগে যেসব এসি বাসে ১২০০ টাকা ভাড়া নিত এখন সেখানে ৭০০ টাকা। আর ননএসি নিত ৮০০ - ৯০০ এখন সেটা ৫০০ - ৫৫০ টাকা। কিন্তু এখন আর নেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সেই অভিযোগ। কারণ বাসের যাত্রী না পেয়ে, পরিবহনের স্টাফরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রীদের কম দামে বাসে উঠতে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত যাত্রী।
গোপালগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী খলিলুল্লাহ বলেন, ঢাকায় ব্যবসা করি। ব্যবসার কাজে জরুরি প্রয়োজনে চলে আসতে হয়েছে। মোটামুটি ঝামেলাহীনভাবেই এসেছি। রাস্তায়ও খুব একটা জ্যাম ছিল না। তবে পরিবার নিয়ে আসিনি, পরিবার আসবে আরও কিছুদিন পর। বাচ্চাদের স্কুল খুলবে আরও ৫ দিন পর।
সায়েদাবাদ যাত্রাবাড়ী ও ধোলাই পাড়সহ আশপাশের এলাকায় রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই দেখা গেছে, একের পর এক বাসে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে ঢাকা থেকে গ্রামে যাচ্ছেন কম যাত্রী কিন্তু ঢাকায় তুলনামূলক বেশি যাত্রী ফিরতে শুরু করেছে।শরীয়তপুর সুপার পরিবহনের ম্যানেজার সুমন মিয়া বলেন, ঈদের আগের ৩-৪ দিন ব্যাপক চাপ ছিল। গত ২৫, ২৬ ও ২৭ মে ঢাকা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০টি করে বাস ছেড়ে গেছে। ঈদের পরের দিন ও গতকাল ৪৬টি বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে।
আজকে (ঈদের চতুর্থ দিন) ভোর থেকে ৯টা পর্যন্ত সাতটি বাস ছেড়ে গেছে। অথচ গতকাল সকালের এই সময়ে ১৯-২০টা বাস গিয়েছিল। আজকে যাত্রী যাচ্ছে খুবই কম, এখন ঢাকায় আসবে বেশি। আজ দুপুরের পর থেকে আর ঢাকার বাইরে যাবে না মানুষ।কুমিল্লার ছোট বাজার থেকে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে মা, ভাই ও ছোট বোনকে নিয়ে আসা তরুণী আয়েশা বলেন, কেরানীগঞ্জে আমাদের বাসা। গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। আসতে কোনো ঝামেলা হয়নি, ভাড়াও খুব বেশি নেয়নি। কিন্তু এখন তো সিএনজি পাচ্ছি না।
ঈদের আগে পরে এবং আজকে কেমন যাত্রী আসা যাওয়া করছে জানতে চাইলে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের আগে মানুষের গ্রামে ফেরার ব্যাপক চাপ ছিল। আগে গেছে ৬০ শতাংশ মানুষ আর ঈদের পরেও চাপ ছিল, তখন গেছে ৪০ শতাংশ। এখন ঢাকা থেকে মানুষ যাবে কম। আসবে বেশি। যদিও আজকে থেকেই মানুষকে ঢাকায় ফেরা শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ঈদের আগের তিনদিন, ঢাকা-গাজীপুর নারায়ণগঞ্জ সব মিলে প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৪১টি বাস বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে। গতকাল শুধু যাত্রাবাড়ীর এই কাউন্টার থেকে ২৬টি গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস গেছে। সব মিলিয়ে গতকাল ৭০-৮০টা বাস ছেড়ে গেছে ঢাকা থেকে।