ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৬:২৯:৩৩ PM

ধানের বিল আটকে টাকা দাবির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
19-07-2026 07:53:39 PM
ধানের বিল আটকে টাকা দাবির অভিযোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে সরকারি ধানের বিল পরিশোধের আগে উৎকোচ দাবি, কৃষককে অপমান এবং বিল আটকে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের কৃষক মো. বকুল মিয়া গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বকুল মিয়া উল্লেখ করেন, চলতি সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় তিনি গত ১৪ ও ১৫ জুলাই গঙ্গাচড়া এলএসডি গুদামে তিন টন ধান সরবরাহ করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ধান জমা দেওয়ার পর ১৬ জুলাই ধানের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে জানতে তিনি গুদাম কার্যালয়ে যান।

তার অভিযোগ, এ সময় ধানের বিল পরিশোধের আগে প্রতি টনে তিন হাজার টাকা করে উৎকোচ দাবি করা হয়। তিনি অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিল আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বকুল মিয়ার আরও অভিযোগ, তাকে গুদাম কার্যালয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলা হয় এবং অপমান করা হয়। একপর্যায়ে গুদামের কয়েকজন শ্রমিকের সহায়তায় তাকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে কৃষক বকুল মিয়া বলেন, একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ধান সরবরাহ করার পরও বিল পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গঙ্গাচড়া এলএসডির সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, এর আগেও ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম, প্রতি টনে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছিল। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে পৃথক অভিযোগও করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গঙ্গাচড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এর আগে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। উৎকোচ নেওয়া বা অনিয়মের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, কৃষকের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার অন্যতম উদ্যোগ। তবে এ কার্যক্রমে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রকৃত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে প্রকৃত কৃষকরা হয়রানি ছাড়াই তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পেতে পারবেন।