ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০৬:৩০:১৪ PM

চট্টগ্রামের দুই প্রকৌশলী বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
19-07-2026 08:15:36 PM
চট্টগ্রামের দুই প্রকৌশলী বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখা থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ জারি করা এক স্মারকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে সরেজমিন তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে মেহেদী চৌধুরী ২০২৬ সালের ২৫ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। এতে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে বদলি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে চসিকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ফাইল বাণিজ্য ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে তাঁরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি অল্প সময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রমাণ বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি; তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় নগরের সড়ক বাতি বন্ধ রাখার ঘটনায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর তাঁকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। এছাড়া ২০১৭ সালে এক কর্মকর্তার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি চাকরিতে ফিরে আসেন।

অভিযোগে ফারজানা মুক্তার নিয়োগ ও দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, শাহীন-উল ইসলামের প্রভাবের কারণে তিনি অস্থায়ী সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০২৩ সালে স্থায়ী কর্মকর্তা না হয়েও প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ‘পরিচ্ছন্ন কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে প্রশাসনিক কারণে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনে নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে বদলি করা হয়। পরে চসিকের প্রকৌশলী সংকট ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁকে পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী পুনরায় চসিকে যোগ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এদিকে, তাঁর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমতি চাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। চসিকের সংস্থাপন শাখার এক স্মারকে জানানো হয়, তিনি ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে এক বছরের জন্য মালয়েশিয়ায় অবস্থানের অনুমতি চেয়েছেন।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট, ব্যক্তিগত গাড়ি, জমি ও অন্যান্য সম্পদের বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।