ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:১০:০২ AM

আলোচিত গুম, হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
01-08-2026 11:45:19 AM
আলোচিত গুম, হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন আলোচিত গুম, হত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক সাবেক ও বর্তমান নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার খবর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ ও হত্যার অভিযোগে বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তারের খবর বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

প্রচলিত বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান অতীতে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় স্কোয়াড্রন লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি তৎকালীন র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের সঙ্গে বিভিন্ন গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

এছাড়া ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের দেওয়া একটি জবানবন্দির বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডে সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করেছে বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার হন।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হওয়ার মামলায়ও নতুন অগ্রগতি দেখা গেছে। ওই ঘটনায় তৎকালীন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা সেনানিবাসে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচ্য।

এদিকে প্রশাসনেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন যুগ্মসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপারকে অবসরে পাঠানোর তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে আরও ১১ জন ডিআইজি ও দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

এছাড়া দীর্ঘদিন পলাতক থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। প্রায় সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার পর তিনি তার মেয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক এসব পদক্ষেপকে অনেকে অতীতের আলোচিত গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান আইনগত অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে প্রত্যেকটি মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত সম্পন্ন হওয়া এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে। আইনের দৃষ্টিতে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত নির্দোষ বলে বিবেচিত হন।