ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:৫৮:৪৫ PM
নন-ক্যাডারে সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা ছিনতাইকারীদের দাপটে উদ্বিগ্ন নগরবাসী সম্প্রসারণের সাথে জামায়াতের বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ লোকসংগীতের মূর্ছনায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে‘টুকটুকি অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে পদবঞ্চিত যুবদল নেতাদের সাক্ষাৎ ভাঙ্গায় কলহের জেরে স্বামীর ওপর হামলা এনবিআরের চেয়ারম্যান ‘রিপন’ ও কিছু স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা নেই ভোট নেই তো ভাতও নেই? পশ্চিমবঙ্গে অনিশ্চয়তা জুনেই নির্যাতনের শিকার ৩৩৩ নারী ও শিশু জুলাই গণহত্যা:জড়িতদের বিচার চান যোদ্ধারা যুবদলের পদবঞ্চিতদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত বিএনপির ভেতরে নীরব বেদনার করুন সুর জয়নুল আবেদিন ফারুকের পাঁচ দশকের রাজনীতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলির নির্দেশদারা বহাল শতকোটি টাকার সম্পদ, আলোচনায় আহম্মদুল্লাহ জাবিতে শিক্ষার্থীর গোপন ভিডিও ধারণ,আটক-১ আগামী অর্থবছরে মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী পল্লী বিদ্যুতায়নের চুরি ঢাকতে গিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা স্থানীয় নির্বাচন: সরকার গঠনের পর বিএনপির বড় পরীক্ষা সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস পোশাক আমদানি হ্রাস: রপ্তানি খাতে নতুন উদ্বেগ শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে মার্কিন কূটনীতিক কুয়াকাটায় ১০ বছরেও প্লট বুঝে পাননি গ্রাহকরা বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল মুস্তফা মনোয়ারের মৃত্যুতে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর শোক ৭২ মাসেও শেষ হচ্ছেনা ২৫০ শয্যার ভবনের কাজ
নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পদেক্ষপ নিন: ফারুক জামায়াত-শিবির দেশের জন্য ভালোবাসার প্রতীক: ড.মাসুদ উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাঞ্ছারামপুরে সাকি বিরোধী মিছিল, বয়কটের ঘোষণা আমান উল্লাহ :গণতন্ত্র ও জনসেবার এক জীবন্ত প্রতীক বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল সই করেছেন, ‘না’র সুযোগ নেই: বিএনপিকে পাটওয়ারী দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হলেন শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ এই কেমন বিচার? জানা গেল কারন রেড ক্রিসেন্ট জিম্মি সুলতান-সোহাগ সিন্ডিকেটে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের বেতন বন্ধ ৭ মাস কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া তাতীলীগ সভাপতি মোল্লা গোটা জাতি এই বৈঠকের’ দিকে তাকিয়ে আছে:রিজভী শহিদ রমজানের পিতার অশ্রুসিক্ত চোখে মির্জা আব্বাস:এক লড়াকু রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না:জামায়াত এনসিপিতে যোগদিল বিভিন্ন দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী দিনার কন্ঠে মৌলিক গান 'মনে রইলো কষ্ট' জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফয়সালের কত সম্পদ কে কোথায় আছেন?আ’ লীগের শীর্ষ নেতারা বরিশাল শিল্পকলা ফের রঙ্গশালা বানানোর ষড়যন্ত্র ! বাঞ্ছারামপু‌রে রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০ এমপি হতে চাইছেন বরিশাল বিভাগের ১৯ ছাত্রনেতা সুবিধাবাদী ও উল্টোপথে চলা দল জামায়াত:লিটন মাহমুদ পাক তারকার সঙ্গে সম্পর্কে দুই বাঙালি নায়িকা! গণঅভ্যুত্থান প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম বিএনপিতে পদ-পদবীহীন,তবুও সক্রিয় যারা প্রেসিডেন্ট সিভিল ডিফেন্স পদক ২০২৫ পেলেন হাবিজুর মানুষের মৃত্যু ‘দেখতে পায়’ বিড়াল? মালয়েশিয়া যাত্রা অনিশ্চিত লাখ লাখ শ্রমিকের

খালেদা জিয়ার সাথে সফরের স্মৃতিচারন নুরুল ইসলাম মাসুদের

বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার নজির গড়ার পথে রয়েছেন আল নাসরের এই পর্তুগীজ সুপারস্টার। যা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। একই সঙ্গে ‘অধরা মাধুরী’ বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ারও লক্ষ্য তার। বিশ্বকাপের মাঝেই মাঠের বাইরের ক্রিশ্চিয়ানোকে নিয়ে অজানা তথ্য ফাঁস করলেন তারই সাবেক সতীর্থ আলভারো মোরাতা।

এক সময়ে রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করেছিলেন মোরাতা। সাবেক সতীর্থকে নিয়ে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জানিয়েছন, তরুণ ফুটবলারদের প্রতি পর্তুগিজ তারকার মনের পরিধি ছিল বিরাট। সম্প্রতি ‘এল কামিনো দে মারিও’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিশ্চিয়ানোর অজানা দিক তুলে ধরেন মোরাতা। রিয়াল মাদ্রিদে নিজের শুরুর দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি রোনালদো ছিলেন খুবই যতœশীল। এ প্রসঙ্গে মোরাতা বলেন, ‘পরিষ্কার মনে আছে, আমি তখন খুবই তরুণ। প্রাক্‌-মৌসুম সফরে যেতাম আমরা। আমার কী প্রয়োজন, সেটা জানতে চাইতেন রোনালদো। আমরা একসঙ্গে শপিংয়ে যেতাম। আইপ্যাড, মোবাইল ফোন ও দামি পারফিউম উপহার দিতেন।’

তিনি আরও জানান, রোনালদোর মতো ফুটবলারের সঙ্গে শুরুতে মানিয়ে নেওয়া তার কাছে কিছুটা কঠিন ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারণাটা বদলে যায়। মোরাতার কথায়, ‘প্রথম দিকে আমি খুব ছোট ছিলাম এবং তার লেভেলের একজন খেলোয়াড়ের যে আকাশচুম্বী চাহিদা থাকে, তাতে অভ্যস্ত ছিলাম না। তবে আমার সঙ্গে তিনি সবসময় খোলামেলা থাকতেন। সব সময় ভালো ব্যবহার করেছেন।’মোরাতার মতে, বাইরের থেকে রোনালদোকে যেভাবেই দেখা হোক না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত ও জ্ঞানী একজন মানুষ। তার ভাষ্যমতে, ‘আমরা একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি, অনেক বিষয়ে কথা বলেছি। ক্রিশ্চিয়ানোর ব্যাপারে আমি একটাই কথা বলব, বাইরে থেকে আপনারা যা দেখেন, সেটা বাদ দিন। যখন আপনি তার সঙ্গে ডিনারে বসবেন, চমকে উঠবেন।’

একই সঙ্গে রোনালদোর ফিটনেস রুটিন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে মোরাতা জানান, ম্যাচ বা সফর শেষে ক্লান্ত সবাই যখন বিশ্রামে যায়, তখন রোনালদো সিট-আপ, সাইক্লিং ও ঠান্ডা জলে স্নানে ব্যস্ত থাকতেন। এটা মোরাতার মতো অনেককেই মুগ্ধ করেছে। সেই কারণেই রোনালদোকে তার দেখা সেরা সতীর্থদের একজন, এমনকী সর্বকালের সেরাদের মধ্যেও একজন বলে জানান স্প্যানিশ ফুটবলার। আগামী ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর পর্তুগাল।

সংগীতের সুর আর মাটির গন্ধে মিশে থাকে বাউল গান। আর সেই সুরের মূর্ছনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সংগীতপিপাসু লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তরুণ শিল্পী সুমাইয়া সিকদার, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টুকটুকি বাউল’ নামে পরিচিত। ফরিদপুর জেলার ইশান গোপালপুর গ্রামের এই মেধাবী শিল্পী তার দরদভরা কণ্ঠের মাধ্যমে বাউল ও লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
​সংগীতের হাতেখড়ি ও অনুপ্রেরণা
তিন বোনের মধ্যে সবার বড় টুকটুকি। সংগীতের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ মূলত পারিবারিক আবহ থেকে পাওয়া। তার বাবা মো. টোকোন সিকদার ও মা রোজিনা বেগমের আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাদের মেয়ে একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বড় শিল্পী হবে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই খুব ছোটবেলা থেকে সংগীতের জগতে হাতেখড়ি টুকটুকির।
​এ বিষয়ে টুকটুকি বাউল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্নই আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। ছোটবেলায় যখনই সুরের টান অনুভব করেছি, বাবা আমার পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। গান শুধু আমার নেশা নয়, গানেই আমি প্রকৃত শান্তি খুঁজি। মানুষের ভালোবাসার যে সাগরে আমি ভেসেছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই আমার গানের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সব বয়সী মানুষের হৃদয়ে নিজের একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে।”
​সংগ্রামের গল্প: মঞ্চে দীর্ঘ প্রতীক্ষা
টুকটুকির পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সংগীতের প্রতি প্রবল টান থাকলেও তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এমন অনেক রাত গেছে, যখন মঞ্চে দীর্ঘ সময় বসে থেকেও গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। অনেক ক্ষেত্রে আয়োজকদের অবহেলায় গান না গেয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শিল্পীসত্তা দমাতে পারেনি এই তরুণীকে। এই কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
​তিনি বলেন, “মঞ্চে বসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গান গাইতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে অনেক রাত কাঁদানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে আমাকে আরও সাধনা করতে হবে। সেই সব দিনগুলোই আমাকে আজকের এই দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
​গুরুর সান্নিধ্য ও শিক্ষা
টুকটুকির সংগীত সাধনার পথে প্রথম গুরু ছিলেন নিজামুদ্দিন লালনী। বর্তমানে তিনি সংগীতের তালিম নিচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীত গুরু কাজী দলিলুদ্দীনের কাছ থেকে।
​গুরু কাজী দলিলুদ্দীন তার শিষ্যা সম্পর্কে বলেন, “টুকটুকির কণ্ঠের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত মায়া ও আধ্যাত্মিকতা আছে। তবে শুধু কণ্ঠই নয়, তার মধ্যে যা আছে তা হলো ‘ধৈর্য’। বাউল সাধনায় ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। সে যে প্রতিকূলতা পার করে আজ উঠে এসেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ। সে যদি নিয়মিত এভাবে সাধনা চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাউল গানের জগতে সে অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
​বাবার স্মৃতিচারণ করে বাবা মো. টোকোন সিকদার বলেন, “আমার মেয়ে যখন ছোট, তখন থেকেই তার গলার আওয়াজ ছিল আলাদা। সে অনেক অবহেলা আর কষ্টের মধ্য দিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। আমার স্বপ্ন ছিল সে মানুষের শিল্পী হবে, আজ লাখো মানুষ তাকে চেনে, ভালোবাসে—এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।”
​পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চায় নিজেকে যেভাবে নিয়োজিত রেখেছেন টুকটুকি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। টুকটুকি ২০২৫ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার কণ্ঠে লোকসংগীতের প্রতিটি কলি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিয়মিত পরিবেশনাগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে বাংলা মাটির গানের আবেদন আজও কতটা অটুট।
​নতুন এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পীর আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, ফরিদপুরসহ দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।