ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০৩:১৯:৩১ AM
▶ ৯ গোল: আসিয়ান কাপ থেকে বিদায় বাংলাদেশ ▶ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ ফারুকের ▶ রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনায় আমিরের বার্তা ▶ স্বৈরাচার ও গুপ্ত এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ▶ ঘোষণা দিয়েছে খেলনা,আনছে ১ কোটি টাকার ড্রোন ▶ নিখোঁজ স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে ভেঙে পড়লেন স্বামী ▶ মুসলিম কর্মকর্তা বাদ, তদন্তে সংখ্যালঘু কমিশন ▶ চট্টগ্রাম–কুনমিং সড়ক, সম্ভাবনা বড়,বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ▶ ভিন্নমতের প্রতি সম্মান:শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ▶ মোয়াজ্জেম বন্ড ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ ▶ জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশের কূটনীতির নতুন বার্তা ▶ জাইমার জাতিসংঘের চাকরি, সরকারের সম্পর্ক নেই ▶ মিরপুরে একের পর এক প্লট দখলের চেষ্টা ▶ প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা দিবে সরকার ▶ ওএসডির এক মাসের মাথায় ফের বান্দরবানে ▶ আহসানুলের নিয়ন্ত্রণে উত্তরা ব্যাংক সিবিএ ▶ চার্জশিটভুক্ত আসামি কীভাবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান? ▶ ইতিহাসে ফ্যাসিস্টের ফেরার নজির নেই: আমান ▶ গাছ রোপণে অনিয়ম, কাঠগড়ায় মোয়াজ্জেম ▶ প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রশংসা করলেন রাষ্ট্রপতি ▶ ইউপিএল-প্রকাশিত একটি বইকে ঘিরে হামলা ▶ নাশকতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে: গয়েশ্বর ▶ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৩২৪ কোটির রাজস্ব ফাঁকি ▶ আকাশের নীচে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার পণ্য ▶ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে অস্থিরতা, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ▶ বিপিডিবির সেই নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত ▶ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু,সেপ্টেম্বরেই ১৩৬ জন ▶ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর ▶ শাহনেওয়াজের চেয়ার নিয়ে নানা প্রশ্ন ▶ জে.আই. ইমপেক্সে অভিযান, বিপুল নথি জব্দ
▶ নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পদেক্ষপ নিন: ফারুক ▶ চাঁদার দাবি না মানায় খুলনা থেকে চাঁদপুরের ব্যবসায়ীর ১২ বছর বয়সী কন্যা সন্তান অপহরণ ▶ আমান উল্লাহ :গণতন্ত্র ও জনসেবার এক জীবন্ত প্রতীক ▶ জামায়াত-শিবির দেশের জন্য ভালোবাসার প্রতীক: ড.মাসুদ ▶ বাঞ্ছারামপুরে সাকি বিরোধী মিছিল, বয়কটের ঘোষণা ▶ উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ▶ সই করেছেন, ‘না’র সুযোগ নেই: বিএনপিকে পাটওয়ারী ▶ বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল ▶ গণঅভ্যুত্থান প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম ▶ হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের ▶ শহিদ রমজানের পিতার অশ্রুসিক্ত চোখে ▶ গাড়িচালকের ছেলে যেভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ▶ সরকার বদলালেও বাড়ছে কারা মৃত্যু ▶ এনসিপিতে যোগদিল বিভিন্ন দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী ▶ মানুষের মৃত্যু ‘দেখতে পায়’ বিড়াল? ▶ উপন্যাস:“লুচ্চা” ▶ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফয়সালের কত সম্পদ ▶ দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হলেন শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ ▶ কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া তাতীলীগ সভাপতি মোল্লা ▶ রেড ক্রিসেন্ট জিম্মি সুলতান-সোহাগ সিন্ডিকেটে ▶ সুবিধাবাদী ও উল্টোপথে চলা দল জামায়াত:লিটন মাহমুদ ▶ এই কেমন বিচার? জানা গেল কারন ▶ কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের বেতন বন্ধ ৭ মাস ▶ ঢাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে সাশ্রয়ী সেবা থেকে ▶ পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের তুমুল সংঘর্ষ ▶ মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না:জামায়াত ▶ মির্জা আব্বাস:এক লড়াকু রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা ▶ আছিয়ার শোকাহত বাবার পাশে তারেক রহমান ▶ প্রেসিডেন্ট সিভিল ডিফেন্স পদক ২০২৫ পেলেন হাবিজুর ▶ গোটা জাতি এই বৈঠকের’ দিকে তাকিয়ে আছে:রিজভী

খালেদা জিয়ার সাথে সফরের স্মৃতিচারন নুরুল ইসলাম মাসুদের

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের পথচলা শেষ হলো বড় ব্যবধানে হেরে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলে হেরেছে জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের দল। টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ হেরে হতাশাজনকভাবে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এরপর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করেও ১-০ গোলে হারে তারা। ফলে শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিল থমাস ডুলির দল।

ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশ কিছুটা গোছানো ফুটবল খেললেও দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটে ওলে রোমেনির পাস থেকে লে বেকার গোল করে এগিয়ে দেন ইন্দোনেশিয়াকে। ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

৩২তম মিনিটে রিজকি রিদোর পাস থেকে আরও এক গোল পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৩৬তম মিনিটে অবশ্য একটি গোল শোধ করে বাংলাদেশ। সুকির ক্রস থেকে হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন।

তবে সেই গোলের পরও ম্যাচের চিত্র বদলায়নি। এক মিনিট পরই নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লে বেকার। ৪২তম মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলও করেন তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আরও এক গোল হজম করে বাংলাদেশ।

ফলে প্রথমার্ধেই ৬-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধেও ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণ সামলাতে পারেনি জামাল-হামজাদের দল। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এই হারে আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচের সবকটিতেই পরাজিত হলো বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মাত্র দুইবার বল পাঠাতে পারলেও মোট ১৩ গোল হজম করেছে দলটি।

সংগীতের সুর আর মাটির গন্ধে মিশে থাকে বাউল গান। আর সেই সুরের মূর্ছনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সংগীতপিপাসু লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তরুণ শিল্পী সুমাইয়া সিকদার, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টুকটুকি বাউল’ নামে পরিচিত। ফরিদপুর জেলার ইশান গোপালপুর গ্রামের এই মেধাবী শিল্পী তার দরদভরা কণ্ঠের মাধ্যমে বাউল ও লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
​সংগীতের হাতেখড়ি ও অনুপ্রেরণা
তিন বোনের মধ্যে সবার বড় টুকটুকি। সংগীতের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ মূলত পারিবারিক আবহ থেকে পাওয়া। তার বাবা মো. টোকোন সিকদার ও মা রোজিনা বেগমের আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাদের মেয়ে একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বড় শিল্পী হবে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই খুব ছোটবেলা থেকে সংগীতের জগতে হাতেখড়ি টুকটুকির।
​এ বিষয়ে টুকটুকি বাউল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্নই আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। ছোটবেলায় যখনই সুরের টান অনুভব করেছি, বাবা আমার পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। গান শুধু আমার নেশা নয়, গানেই আমি প্রকৃত শান্তি খুঁজি। মানুষের ভালোবাসার যে সাগরে আমি ভেসেছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই আমার গানের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সব বয়সী মানুষের হৃদয়ে নিজের একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে।”
​সংগ্রামের গল্প: মঞ্চে দীর্ঘ প্রতীক্ষা
টুকটুকির পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সংগীতের প্রতি প্রবল টান থাকলেও তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এমন অনেক রাত গেছে, যখন মঞ্চে দীর্ঘ সময় বসে থেকেও গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। অনেক ক্ষেত্রে আয়োজকদের অবহেলায় গান না গেয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শিল্পীসত্তা দমাতে পারেনি এই তরুণীকে। এই কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
​তিনি বলেন, “মঞ্চে বসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গান গাইতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে অনেক রাত কাঁদানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে আমাকে আরও সাধনা করতে হবে। সেই সব দিনগুলোই আমাকে আজকের এই দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
​গুরুর সান্নিধ্য ও শিক্ষা
টুকটুকির সংগীত সাধনার পথে প্রথম গুরু ছিলেন নিজামুদ্দিন লালনী। বর্তমানে তিনি সংগীতের তালিম নিচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীত গুরু কাজী দলিলুদ্দীনের কাছ থেকে।
​গুরু কাজী দলিলুদ্দীন তার শিষ্যা সম্পর্কে বলেন, “টুকটুকির কণ্ঠের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত মায়া ও আধ্যাত্মিকতা আছে। তবে শুধু কণ্ঠই নয়, তার মধ্যে যা আছে তা হলো ‘ধৈর্য’। বাউল সাধনায় ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। সে যে প্রতিকূলতা পার করে আজ উঠে এসেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ। সে যদি নিয়মিত এভাবে সাধনা চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাউল গানের জগতে সে অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
​বাবার স্মৃতিচারণ করে বাবা মো. টোকোন সিকদার বলেন, “আমার মেয়ে যখন ছোট, তখন থেকেই তার গলার আওয়াজ ছিল আলাদা। সে অনেক অবহেলা আর কষ্টের মধ্য দিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। আমার স্বপ্ন ছিল সে মানুষের শিল্পী হবে, আজ লাখো মানুষ তাকে চেনে, ভালোবাসে—এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।”
​পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চায় নিজেকে যেভাবে নিয়োজিত রেখেছেন টুকটুকি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। টুকটুকি ২০২৫ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার কণ্ঠে লোকসংগীতের প্রতিটি কলি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিয়মিত পরিবেশনাগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে বাংলা মাটির গানের আবেদন আজও কতটা অটুট।
​নতুন এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পীর আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, ফরিদপুরসহ দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।