ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,
সময়: ১০:৫২:৫৪ PM
ফেব্রুয়ারিতে প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের পরিকল্পনা এনসিপির নিয়োগ-বদলির নামে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণা জাইকা প্রেসিডেন্টের চার গুণ বেশি ব্যয়ে দেখিয়ে সায়েদাবাদ প্রকল্প দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে:দুদু লেকের দূষণ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ব্রাজিলের বিদায়ে যা বললেন তটিনী প্রধানমন্ত্রীকে সৌদিতে আমন্ত্রণ যুবরাজের সৌরবিদ্যুৎ বাড়িয়ে আমদানি চাপ কমানোর পরিকল্পনা মেঘনা পেট্রোলিয়ামে দুর্নীতির অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৬ জুলাই একা... চেনা পৃথিবীর বিদায়! মন্ত্রী হিসাবে ইশরাক হোসেনের ব্যস্ত এক রোববার গদ্য সাহিত্য. সান্ত্বনা ও প্রত্যুত্তর ডেঙ্গু রোগী খুঁজে পাচ্ছে না সিটি করপোরেশন ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি প্রধানমন্ত্রীর জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী আলী খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে জনস্রোত বিদ্যুৎ সংকট ও অপপ্রচারের চ্যালেঞ্জে বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার ভাতায় দুর্নীতির অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় হাসি ফুটল ২২০ অসহায় নারীর তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে ভারতের বার্তা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : তথ্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যই হচ্ছে জনস্বার্থ: রিজভী হামলা হলে চরম প্রতিশোধ, হুঁশিয়ারি তেহরানের নন-ক্যাডারে সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা ছিনতাইকারীদের দাপটে উদ্বিগ্ন নগরবাসী সম্প্রসারণের সাথে জামায়াতের বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জ লোকসংগীতের মূর্ছনায় মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে‘টুকটুকি অপপ্রচার কঠোরভাবে দমন করা হবে:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পদেক্ষপ নিন: ফারুক জামায়াত-শিবির দেশের জন্য ভালোবাসার প্রতীক: ড.মাসুদ উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাঞ্ছারামপুরে সাকি বিরোধী মিছিল, বয়কটের ঘোষণা আমান উল্লাহ :গণতন্ত্র ও জনসেবার এক জীবন্ত প্রতীক সই করেছেন, ‘না’র সুযোগ নেই: বিএনপিকে পাটওয়ারী বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হলেন শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ এই কেমন বিচার? জানা গেল কারন রেড ক্রিসেন্ট জিম্মি সুলতান-সোহাগ সিন্ডিকেটে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের বেতন বন্ধ ৭ মাস কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া তাতীলীগ সভাপতি মোল্লা গোটা জাতি এই বৈঠকের’ দিকে তাকিয়ে আছে:রিজভী শহিদ রমজানের পিতার অশ্রুসিক্ত চোখে মির্জা আব্বাস:এক লড়াকু রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা এনসিপিতে যোগদিল বিভিন্ন দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না:জামায়াত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফয়সালের কত সম্পদ দিনার কন্ঠে মৌলিক গান 'মনে রইলো কষ্ট' কে কোথায় আছেন?আ’ লীগের শীর্ষ নেতারা গণঅভ্যুত্থান প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম বাঞ্ছারামপু‌রে রাস্তা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০ বরিশাল শিল্পকলা ফের রঙ্গশালা বানানোর ষড়যন্ত্র ! এমপি হতে চাইছেন বরিশাল বিভাগের ১৯ ছাত্রনেতা মানুষের মৃত্যু ‘দেখতে পায়’ বিড়াল? পাক তারকার সঙ্গে সম্পর্কে দুই বাঙালি নায়িকা! সুবিধাবাদী ও উল্টোপথে চলা দল জামায়াত:লিটন মাহমুদ প্রেসিডেন্ট সিভিল ডিফেন্স পদক ২০২৫ পেলেন হাবিজুর বিএনপিতে পদ-পদবীহীন,তবুও সক্রিয় যারা উপন্যাস:“লুচ্চা”

খালেদা জিয়ার সাথে সফরের স্মৃতিচারন নুরুল ইসলাম মাসুদের

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে সেলেসাওদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে। প্রিয় দলের এমন বিদায়ে হতাশ হয়েছেন বিশ্বের কোটি কোটি ব্রাজিল-সমর্থক। সেই তালিকায় রয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনীও। ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার (৬ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন এই অভিনেত্রী। সেখানে জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রিয় দলের প্রতি নিজের অটুট ভালোবাসার কথা জানান তিনি।ব্রাজিলের জার্সি পরা একটি ছবি পোস্ট করে তটিনী লেখেন, ‘দলের প্রতিটি ভালো ও খারাপ সময়ে আমি পাশে আছি। ব্রাজিল এমন একটি দল, যা আমি চিরকাল আমার হৃদয়ে বহন করব। আজ, আগামীকাল এবং সর্বদা-আমি আমার দলের সঙ্গেই থাকব।’

তটিনীর পোস্টে ব্যবহৃত ছবিতেও ফুটে উঠেছে তার আবেগ। এক হাত দিয়ে চোখ ঢেকে রাখা সেই ছবিতে যেন প্রিয় দলের বিদায়ের বেদনা লুকানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও একাধিক কান্নার ইমোজি দিয়ে নিজের হতাশার প্রকাশ ঘটান এই অভিনেত্রী।পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ভক্ত-অনুরাগীদের মন্তব্যে ভরে ওঠে তার ফেসবুক। অনেকেই তাকে সান্ত্বনা জানিয়ে লিখেছেন, জয়-পরাজয় খেলাধুলারই অংশ। আবার অনেকেই জানিয়েছেন, ফল যাই হোক না কেন, ব্রাজিলের প্রতি তাদের সমর্থন কখনো কমবে না।

মাসুদ রানা রাজ মাসুদ নামে একজন লিখেছেন, ‘যারা ব্রাজিল সাপোর্টার, তারা জীবনেও অন্য দলে যাবে না। জিতলেও ব্রাজিল, হারলেও ব্রাজিল। ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে ২০৩০ সালে। শুভকামনা সবসময় প্রিয় দল ব্রাজিলের জন্য।আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘আমরা ম্যাচ হেরেছি, তাতে কোনো দুঃখ নেই। আমাদের বস নেইমার তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে পেরেছে, এটাতেই আমরা খুশি।’

শুধু তটিনী নন, ব্রাজিলের বিদায়ের পর দেশের শোবিজ অঙ্গনের আরও অনেক তারকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন। কেউ প্রিয় দলের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার আগামী বিশ্বকাপের অপেক্ষায় থাকার কথা লিখেছেন।

তবে তটিনীর বার্তাটি যেন সব ব্রাজিল- সমর্থকের মনের কথাই প্রকাশ করেছে। জয় বা পরাজয়, ট্রফি আসুক কিংবা না-আসুক-প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা যে কমে না, সেটিই জানিয়ে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।’

 

সংগীতের সুর আর মাটির গন্ধে মিশে থাকে বাউল গান। আর সেই সুরের মূর্ছনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সংগীতপিপাসু লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তরুণ শিল্পী সুমাইয়া সিকদার, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টুকটুকি বাউল’ নামে পরিচিত। ফরিদপুর জেলার ইশান গোপালপুর গ্রামের এই মেধাবী শিল্পী তার দরদভরা কণ্ঠের মাধ্যমে বাউল ও লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
​সংগীতের হাতেখড়ি ও অনুপ্রেরণা
তিন বোনের মধ্যে সবার বড় টুকটুকি। সংগীতের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ মূলত পারিবারিক আবহ থেকে পাওয়া। তার বাবা মো. টোকোন সিকদার ও মা রোজিনা বেগমের আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাদের মেয়ে একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বড় শিল্পী হবে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই খুব ছোটবেলা থেকে সংগীতের জগতে হাতেখড়ি টুকটুকির।
​এ বিষয়ে টুকটুকি বাউল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্নই আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। ছোটবেলায় যখনই সুরের টান অনুভব করেছি, বাবা আমার পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। গান শুধু আমার নেশা নয়, গানেই আমি প্রকৃত শান্তি খুঁজি। মানুষের ভালোবাসার যে সাগরে আমি ভেসেছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই আমার গানের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সব বয়সী মানুষের হৃদয়ে নিজের একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে।”
​সংগ্রামের গল্প: মঞ্চে দীর্ঘ প্রতীক্ষা
টুকটুকির পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সংগীতের প্রতি প্রবল টান থাকলেও তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এমন অনেক রাত গেছে, যখন মঞ্চে দীর্ঘ সময় বসে থেকেও গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। অনেক ক্ষেত্রে আয়োজকদের অবহেলায় গান না গেয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শিল্পীসত্তা দমাতে পারেনি এই তরুণীকে। এই কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
​তিনি বলেন, “মঞ্চে বসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গান গাইতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে অনেক রাত কাঁদানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে আমাকে আরও সাধনা করতে হবে। সেই সব দিনগুলোই আমাকে আজকের এই দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
​গুরুর সান্নিধ্য ও শিক্ষা
টুকটুকির সংগীত সাধনার পথে প্রথম গুরু ছিলেন নিজামুদ্দিন লালনী। বর্তমানে তিনি সংগীতের তালিম নিচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীত গুরু কাজী দলিলুদ্দীনের কাছ থেকে।
​গুরু কাজী দলিলুদ্দীন তার শিষ্যা সম্পর্কে বলেন, “টুকটুকির কণ্ঠের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত মায়া ও আধ্যাত্মিকতা আছে। তবে শুধু কণ্ঠই নয়, তার মধ্যে যা আছে তা হলো ‘ধৈর্য’। বাউল সাধনায় ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। সে যে প্রতিকূলতা পার করে আজ উঠে এসেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ। সে যদি নিয়মিত এভাবে সাধনা চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাউল গানের জগতে সে অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
​বাবার স্মৃতিচারণ করে বাবা মো. টোকোন সিকদার বলেন, “আমার মেয়ে যখন ছোট, তখন থেকেই তার গলার আওয়াজ ছিল আলাদা। সে অনেক অবহেলা আর কষ্টের মধ্য দিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। আমার স্বপ্ন ছিল সে মানুষের শিল্পী হবে, আজ লাখো মানুষ তাকে চেনে, ভালোবাসে—এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।”
​পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চায় নিজেকে যেভাবে নিয়োজিত রেখেছেন টুকটুকি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। টুকটুকি ২০২৫ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার কণ্ঠে লোকসংগীতের প্রতিটি কলি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিয়মিত পরিবেশনাগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে বাংলা মাটির গানের আবেদন আজও কতটা অটুট।
​নতুন এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পীর আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, ফরিদপুরসহ দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।