ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,
সময়: ০২:৩২:০৪ AM
ব্রুনাই ফেরত শ্রমিক: বেদনা ও বিচার জানাজা পার্টি অফিসে হয়নি তাই চাপা ক্ষোভ যে মুসলিম নারীর ত্যাগে আজকের তারকা ইয়ামাল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশ আটক ৩ কাঠালতলীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে অভিযোগ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, বহাল প্রকৌশলীরা পরিকল্পিত অপপ্রচারের লক্ষ্য আলতাফ চৌধুরী দিল্লিতে সংঘর্ষে আহত ১৮০, আন্দোলন চলবে দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক ঐকমত্যের আহ্বান রিজভীর পরিবর্তন অর্থবহ না হলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে: দুদু নতি স্বীকার,দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-বিজেপি বৈঠক ওমরাহ ভিসার মেয়াদ এক বছরে উন্নীত সৌদির দিল্লিতে ব্যাপক সংঘর্ষ গ্রেপ্তার অভিজিৎ দীপক আন্দরকিল্লা হাসপাতালে টেন্ডার নিয়ে বিতর্ক রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ গ্রেপ্তার দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ চালান নিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে অভিযোগ আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন শরিকদের সঙ্গে সন্ধ্যায় বসছেন প্রধানমন্ত্রী কাস্টমস কর্মকর্তা আলতাফ ১০০ কোটির মালিক চট্টগ্রামের দুই প্রকৌশলী বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ধানের বিল আটকে টাকা দাবির অভিযোগ ৩৫০ কোটির গুদাম প্রকল্পে ব্যাপক অসঙ্গতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইসির :রিজভী ‘প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা” আগষ্টে পরীক্ষামূলক প্রবাসী কার্ড চালু, ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দখলী জমির মুল্য ২০০ কোটি ১৪৩ জনের নিয়োগ, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
নির্বাচনী সহিংসতা রোধে পদেক্ষপ নিন: ফারুক জামায়াত-শিবির দেশের জন্য ভালোবাসার প্রতীক: ড.মাসুদ বাঞ্ছারামপুরে সাকি বিরোধী মিছিল, বয়কটের ঘোষণা উপসাগরজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আমান উল্লাহ :গণতন্ত্র ও জনসেবার এক জীবন্ত প্রতীক সই করেছেন, ‘না’র সুযোগ নেই: বিএনপিকে পাটওয়ারী বিশ্বে বাংলার সুরকে ছড়িয়ে দিতে চাই:দিনা মন্ডল গণঅভ্যুত্থান প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি কম হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের শহিদ রমজানের পিতার অশ্রুসিক্ত চোখে গাড়িচালকের ছেলে যেভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী দক্ষিন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হলেন শাহ মো.মাসুম বিল্লাহ এই কেমন বিচার? জানা গেল কারন রেড ক্রিসেন্ট জিম্মি সুলতান-সোহাগ সিন্ডিকেটে কেরানীগঞ্জে বেপরোয়া তাতীলীগ সভাপতি মোল্লা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ফয়সালের কত সম্পদ কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীদের বেতন বন্ধ ৭ মাস এনসিপিতে যোগদিল বিভিন্ন দলের ৩ শতাধিক নেতাকর্মী সরকার বদলালেও বাড়ছে কারা মৃত্যু সুবিধাবাদী ও উল্টোপথে চলা দল জামায়াত:লিটন মাহমুদ গোটা জাতি এই বৈঠকের’ দিকে তাকিয়ে আছে:রিজভী উপন্যাস:“লুচ্চা” দিনার কন্ঠে মৌলিক গান 'মনে রইলো কষ্ট' মির্জা আব্বাস:এক লড়াকু রাজনীতির দীর্ঘ পথচলা প্রেসিডেন্ট সিভিল ডিফেন্স পদক ২০২৫ পেলেন হাবিজুর মাফিয়াতন্ত্রের বাংলাদেশ দেখতে চাই না:জামায়াত মানুষের মৃত্যু ‘দেখতে পায়’ বিড়াল? ঢাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে সাশ্রয়ী সেবা থেকে কে কোথায় আছেন?আ’ লীগের শীর্ষ নেতারা এমপি হতে চাইছেন বরিশাল বিভাগের ১৯ ছাত্রনেতা

খালেদা জিয়ার সাথে সফরের স্মৃতিচারন নুরুল ইসলাম মাসুদের

বিশ্ব ফুটবল এখন যার নামে মাতামাতি, সেই লামিন ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে শুধু প্রতিভা নয়, রয়েছে এক পরিবারের অশ্রু-ঘাম আর অদম্য লড়াই। বার্সেলোনা ও স্পেনের জার্সিতে মাঠ কাঁপানো এই তরুণ তারকা যখন গোল উদযাপন করেন, তখন তার চোখে ভেসে ওঠে শৈশবের সেই কঠিন দিনগুলো এবং এক নারীর অসীম ত্যাগ। কয়েক দশক আগের কথা। মরক্কোর এক সাধারণ নারী ফাতিমা রোমানি স্বপ্ন দেখলেন পরিবারের জন্য উন্নত জীবনের। কোনো আইনি কাগজপত্র বা অর্থ ছাড়াই তিনি একাই পাড়ি দিলেন অচেনা স্পেনের উদ্দেশে। প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় কাটিয়ে শেষমেশ থিতু হলেন কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের রকাফোন্দা এলাকায়। সেখানে কোনো নিরাপত্তা বা সঞ্চয় ছিল না। তবু হাল ছাড়েননি ফাতিমা। দিন-রাত এক করে একাধিক শিফটে কাজ করতে শুরু করলেন। জমানো প্রতিটি টাকা দিয়ে ধীরে ধীরে মরক্কোয় রেখে আসা সন্তানদের কাছে টেনে আনলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউইও। এভাবেই আবার এক হয়ে গেল ছড়িয়ে পড়া পরিবার।

ইয়ামালের ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গেলে আবারও সবার আগে এগিয়ে এলেন দাদি ফাতিমা। রকাফোন্দার চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে তিনি নাতিকে আগলে রাখলেন, মানসিক স্থিরতা দিলেন এবং ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহকে বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করলেন।

আজ যখন লামিন ইয়ামাল বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার, তখনও তিনি নিজের শিকড় ভোলেননি। মাঠে গোল করার পর আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ দেখানো তার জন্য শুধু উদযাপন নয়, বরং রকাফোন্দার পোস্টকোড ০৮৩০৪-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

সাফল্যের পর ইয়ামাল তার অর্জিত অর্থ দিয়ে দাদি ফাতিমার জন্য রকাফোন্দাতেই একটি বাড়ি কিনে দিয়েছেন, যেখানে তিনি এখনও শান্তিতে বাস করছেন। তারকা বলেন, “ট্রফি জেতার চেয়ে বড় আনন্দ আমার বাবা-মা ও দাদিকে সুখী রাখতে পারা।”

সংগীতের সুর আর মাটির গন্ধে মিশে থাকে বাউল গান। আর সেই সুরের মূর্ছনায় মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সংগীতপিপাসু লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন তরুণ শিল্পী সুমাইয়া সিকদার, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টুকটুকি বাউল’ নামে পরিচিত। ফরিদপুর জেলার ইশান গোপালপুর গ্রামের এই মেধাবী শিল্পী তার দরদভরা কণ্ঠের মাধ্যমে বাউল ও লোকসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।
​সংগীতের হাতেখড়ি ও অনুপ্রেরণা
তিন বোনের মধ্যে সবার বড় টুকটুকি। সংগীতের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ মূলত পারিবারিক আবহ থেকে পাওয়া। তার বাবা মো. টোকোন সিকদার ও মা রোজিনা বেগমের আজন্ম স্বপ্ন ছিল, তাদের মেয়ে একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে বড় শিল্পী হবে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই খুব ছোটবেলা থেকে সংগীতের জগতে হাতেখড়ি টুকটুকির।
​এ বিষয়ে টুকটুকি বাউল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার বাবা-মায়ের স্বপ্নই আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। ছোটবেলায় যখনই সুরের টান অনুভব করেছি, বাবা আমার পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। গান শুধু আমার নেশা নয়, গানেই আমি প্রকৃত শান্তি খুঁজি। মানুষের ভালোবাসার যে সাগরে আমি ভেসেছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই আমার গানের মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সব বয়সী মানুষের হৃদয়ে নিজের একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে।”
​সংগ্রামের গল্প: মঞ্চে দীর্ঘ প্রতীক্ষা
টুকটুকির পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সংগীতের প্রতি প্রবল টান থাকলেও তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এমন অনেক রাত গেছে, যখন মঞ্চে দীর্ঘ সময় বসে থেকেও গান গাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। অনেক ক্ষেত্রে আয়োজকদের অবহেলায় গান না গেয়েই ফিরতে হয়েছে তাকে। কিন্তু শিল্পীসত্তা দমাতে পারেনি এই তরুণীকে। এই কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
​তিনি বলেন, “মঞ্চে বসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গান গাইতে না পারার যন্ত্রণা আমাকে অনেক রাত কাঁদানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়িনি। আমি মনে করেছি, আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে আমাকে আরও সাধনা করতে হবে। সেই সব দিনগুলোই আমাকে আজকের এই দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
​গুরুর সান্নিধ্য ও শিক্ষা
টুকটুকির সংগীত সাধনার পথে প্রথম গুরু ছিলেন নিজামুদ্দিন লালনী। বর্তমানে তিনি সংগীতের তালিম নিচ্ছেন বিশিষ্ট সংগীত গুরু কাজী দলিলুদ্দীনের কাছ থেকে।
​গুরু কাজী দলিলুদ্দীন তার শিষ্যা সম্পর্কে বলেন, “টুকটুকির কণ্ঠের মধ্যে এক ধরণের অদ্ভুত মায়া ও আধ্যাত্মিকতা আছে। তবে শুধু কণ্ঠই নয়, তার মধ্যে যা আছে তা হলো ‘ধৈর্য’। বাউল সাধনায় ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। সে যে প্রতিকূলতা পার করে আজ উঠে এসেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ। সে যদি নিয়মিত এভাবে সাধনা চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাউল গানের জগতে সে অনেক দূর যাবে বলে আমার বিশ্বাস।”
​বাবার স্মৃতিচারণ করে বাবা মো. টোকোন সিকদার বলেন, “আমার মেয়ে যখন ছোট, তখন থেকেই তার গলার আওয়াজ ছিল আলাদা। সে অনেক অবহেলা আর কষ্টের মধ্য দিয়ে আজকের এই জায়গায় এসেছে। আমার স্বপ্ন ছিল সে মানুষের শিল্পী হবে, আজ লাখো মানুষ তাকে চেনে, ভালোবাসে—এটাই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি।”
​পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চায় নিজেকে যেভাবে নিয়োজিত রেখেছেন টুকটুকি, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। টুকটুকি ২০২৫ সালে ফরিদপুর ইয়াসিন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। তার কণ্ঠে লোকসংগীতের প্রতিটি কলি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার নিয়মিত পরিবেশনাগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে বাংলা মাটির গানের আবেদন আজও কতটা অটুট।
​নতুন এই প্রতিভাবান বাউল শিল্পীর আগামী দিনের পথচলা আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, ফরিদপুরসহ দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।