নান্দাইলের মাটি, মানুষ আর শৈশবের স্মৃতি যেন এক অদৃশ্য বন্ধনে বেঁধে রেখেছে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এবং ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য জনাব ইয়াসের খান চৌধুরীকে। এলাকায় যতক্ষণ তিনি অবস্থান করেন, ততক্ষণই চারপাশে দেখতে পান শৈশবের চেনা মুখ, পরিচিত পথঘাট এবং স্মৃতিবিজড়িত সেই পরিবেশ, যেখানে কেটেছে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাটিতেই তিনি পেয়েছেন মায়ের স্নেহ, বাবার ভালোবাসা এবং পরিবার-পরিজনের আদর। তাই নান্দাইল তাঁর কাছে শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, বরং আত্মার সঙ্গে মিশে থাকা আবেগ ও ভালোবাসার একটি নাম।
শৈশবের বন্ধু, প্রতিবেশী, এলাকার প্রবীণ মানুষ কিংবা মায়ের বয়সী নারীদের যখনই রাস্তায় চলাফেরা করতে দেখেন, তখনই তাঁর মনে ভেসে ওঠে ছোটবেলার অসংখ্য স্মৃতি। সেই স্মৃতির টান থেকেই তিনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার শিক্ষা পেয়েছেন। অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এই মানবিক দায়বদ্ধতার ধারাবাহিকতায় গত ৩১ জুলাই ও ১ আগস্ট নান্দাইল উপজেলায় উন্নয়ন, জনসেবা এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
৩১ জুলাই, শুক্রবার তিনি নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কালাসরকার বাজারে দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
একই দিনে তিনি মোয়াজ্জেমপুর কালাসরকার বাজার ঈদগাহ মাঠের পাকা রাস্তা থেকে বাহাদুরপুর আল হেরা হাফিজিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়কে মাটি ভরাট ও সলিং কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবি ছিল এই সড়কটির উন্নয়ন। কাজটির উদ্বোধনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের সূচনা হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। মানুষের চলাচল সহজ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে কাজ করছে।
১ আগস্ট, শনিবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে নান্দাইলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক জরুরি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন ইয়াসের খান চৌধুরী। সভায় তিনি নান্দাইলবাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সেবা একটি মৌলিক জনসেবা। জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও নান্দাইল পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাব্য সমাধান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একই দিন নান্দাইলের স্থানীয় তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইতিবাচক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও স্থানীয় ঐতিহ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু পল্লব রায়ের পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু দীপক রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি মরহুমের বাসভবনে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার দেশের প্রতি অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে দুই দিনের কর্মসূচিতে উন্নয়ন, জনসেবা, সাংগঠনিক কার্যক্রম, তরুণদের সম্পৃক্তকরণ এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নান্দাইলবাসীর পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।