ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:১৬:০২ AM

মেহেদী-এনডিইর বিরুদ্ধে ৫০ লাখ ঘুষের অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।।ঢাকাপ্রেস২৪.কম
02-08-2026 08:32:22 PM
মেহেদী-এনডিইর বিরুদ্ধে ৫০ লাখ ঘুষের অভিযোগ

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তবে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে এখনো নানা অভিযোগ উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অনিয়ম ও তদবিরের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জাল নথিপত্র ব্যবহার, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন এবং সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও তাদের স্বার্থ রক্ষায় একটি পক্ষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম গণপূর্তের প্রকৌশলী মেহেদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এনডিই একটি পরিচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করে আসছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অতীতে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বড় অঙ্কের সরকারি কাজ পেয়েছে।

সাম্প্রতিক অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চট্টগ্রাম গণপূর্তের প্রকৌশলী মেহেদী। অভিযোগ করা হচ্ছে, তিনি এনডিই-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে তদবির করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রকৌশলী মেহেদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক পক্ষের দাবি, তিনি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, এসব দাবির বিষয়ে তার নিজস্ব বক্তব্য বা প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পরও কিছু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে পুরোনো অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

এনডিইর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে অনিয়ম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মিথ্যা অভিযোগ হলে তা স্পষ্ট করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি প্রকল্প পরিচালনা ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব কতটা রয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে।