ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০২:৫৬:৫১ AM

ত্যাগী রাজনীতিক কর্মী নূরুল ইসলাম খান মাসুদ

মান্নান মারুফ
03-08-2026 09:46:17 PM
ত্যাগী রাজনীতিক কর্মী নূরুল ইসলাম খান মাসুদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা লায়ন মো. নূরুল ইসলাম খান মাসুদ (এলএলবি, এলএলএম) রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন পরিচিত একটি নাম, তেমনি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও বন্ধুসুলভ আচরণের জন্য অল্প সময়েই মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোই তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বরিশালের বাকেরগঞ্জের সন্তান মাসুদ নিয়মিত নিজ এলাকায় যান এবং অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। প্রতি মাসেই তিনি এলাকায় গিয়ে দলীয় ও সাধারন মানুষের খোঁজখবর নেন এবং নীরবে বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের ছেলে-মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করে আসছেন তিনি। মানবসেবাকে তিনি ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা হিসেবে মনে করেন।

প্রায় ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন নূরুল ইসলাম খান মাসুদ। রাজনৈতিক জীবনে পদ-পদবীর প্রতি তাঁর কোনো লোভ বা আক্ষেপ নেই। তাঁর অনেক সহযোদ্ধা বর্তমানে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকলেও তিনি দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচির প্রতি অবিচল থেকেছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর উপস্থিতি এখনও নিয়মিত ও সক্রিয়। নতুন প্রজন্মের কাছে বিএনপির আদর্শ, দর্শন ও রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৭৭-৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার রাজপথে তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। বিএনপির জনসভা শুরু হওয়ার আগেই মাইকে বক্তব্য দিয়ে জনগণকে সংগঠিত করতেন। এ কারণেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি “মাইক মাসুদ” নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে জনাব তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি মাইকে দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রদলের রাজনীতিতে তাঁর পথচলা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে তেজগাঁও কলেজে সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি বৃহত্তর মতিঝিল থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম আহ্বায়ক, ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

১৯৮৮ সালে কমলাপুর রেলস্টেশন ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তিনি। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছাত্রদলের ইতিহাসে কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদটি প্রথম তাঁর জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীরা উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্যবিষয়ক সম্পাদক, আইন ও পুনর্বাসন সম্পাদক এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুবদলকে সারাদেশে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে যে ১১টি টিম গঠন করেন, সেখানে ঢাকা মহানগর মেট্রো টিমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন মাসুদ।

রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হরতাল কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন। এছাড়া ২০১৮ সালেও গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। তিনি ‘ঠিকানা বাকেরগঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক, ‘বরিশাল বিভাগ জাতীয়তাবাদী ফোরাম’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গবেষণাভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক।

পারিবারিকভাবেও তিনি একটি মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম মো. সিরাজুল ইসলাম খান ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর। দাদা মরহুম বড় মিয়া আসমান আলী খান সমাজসেবক ও দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া নানা মরহুম মো. এশেম শরীফ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নূরুল ইসলাম খান মাসুদ নিজেকে একজন ত্যাগী, আদর্শনিষ্ঠ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে তিনি এখনও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে দলের আদর্শ তুলে ধরার প্রয়াস তাঁকে দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।